শ্রোতা-দর্শকদের মন্তব্যগুলো আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২৪ মে ২০১৬, ১৭:২১
 
 
ক্লোজআপ ওয়ান রিয়েলিটি শো থেকে কণ্ঠশিল্পী কিশোরে শোবিজে পথচলা শুরু। তবে নিজের মেধা আর পরিশ্রমেই মৌলিক কাজ দিয়ে একটা আইডিন্টি তৈরি করেছেন শ্রোতামহলে। নিয়মিত গায়কীর পাশাপাশি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন নিয়মিত। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন অনলাইনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত ভৌমিক
 
কেমন আছেন?
এইতো ভালো আছি। ঝড় বৃষ্টিতে কেউ জানতে চাইলো কেমন আছি এটাই ভালো লেগেছে। ঝড় বৃষ্টিতে ঘরে বসেই বসেই পরিবারকে,নিজেকে সময় দিচ্ছি। অন্যান্য সময় তো ব্যস্ততার জন্য নিজেকে,পরিবারকে খুব কমই সময় দিতে পারি।
 
আর গানের ব্যস্ততা-
সত্যি কথা বলতে গেলে ব্যস্ততার তো কোন শেষ নেই। সেদিক থেকে এখনকার ব্যস্ততা বেশ ভালোই আছে। মিউজিক শো,টিভি শো এগুলো নিয়েই চলছে। আর একটা কথা  অ্যালবাম বের করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অ্যালবাম বের করার পরের ব্যস্ততাটা একটু বেশীই থাকে। অ্যালবামের গান,মিউজিক ভিডিওগুলোর প্রচারনা,ক্যাম্পেইন এসব তো আছেই; পাশাপাশি পরবর্তী অ্যালবামের গান,মিউজিক ভিডিওর কাজ এগুলো নিয়েও ভাবতে হয়। ওহ হ্যাঁ সাথে দর্শক শ্রোতাদের রিভিউর জন্য নিজের মধ্যে এক ধরণের কৌতুহল,উন্মাদনা কাজ করে।
 
সম্প্রতি এবং পরবর্তী কাজ প্রসঙ্গে -
এইতো সম্প্রতি নতুন মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। গানটির শিরোনাম ছিলো ‘তোলপাড়’। গানটির ভিডিওতে মডেল ছিলেন নেপালি অভিনেত্রী সুরবীনা কারকি। ‘তোলপাড়’ আমার তৃতীয় মিশ্র অ্যালবাম। এর আগে ‘ধুলোর গান’ ও ‘কিশোর ফিচারিং ভ্যারিয়াস আর্টিস্টস’ নামের দুটি অ্যালবামে সুর-সংগীতায়োজন করেছিলাম।
এছাড়া এলিটার সাথে একটি কাজ করলেন আপনি। এই কাজের অভিজ্ঞতা বলুন প্লিজ -
গত সপ্তাহে এলিটা আপুর সাথে একটি দ্বৈত অ্যালবাম বের হলো ‘তুমি আর আমি’ শিরোনামে। ‘তুমি আর আমি’ নামের অ্যালবামটি সাজানো হয়েছে বেশ কিছু রোমান্টিক কথার মেলো-রক গান দিয়ে। ‘এলিটা আপুর সঙ্গে কাজ করাটা বেশ আনন্দের। কারণ তিনি গানটা ভালো বোঝেন। তবে তার জন্য গান তৈরি করা এবং সহশিল্পী হিসেবে গাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। উনার যে কণ্ঠ এবং গায়কী সেটা অদ্বিতীয়। তাই ভালো কিছু গানের চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। বাকিটা শ্রোতাদের বিবেচনা।’ আর পরবর্তী কাজ বলতে শিগগিরই অ্যালবামটি সিডি আকারেও প্রকাশ পাবে। সেই সাথে  ‘তুমি আর আমি’ অ্যালবামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও থাকছে। শ্রোতাদের জন্য বলতে গেলে এটাই থাকছে চমক হিসেবে।
 
IMG0
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি তো বলতে গেলে এখন ডিজিটাল। আপনি ব্যাপারটাকে কিভাবে দেখেন?
 
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের একদিন না একদিন ডিজিটাল হতেই হবে। যেহেতু বর্তমান বাজারটা প্রতিযোগিতার বাজার এখানে টিকে থাকতে হলে নিজের মেধা,শ্রম আর কাজের পরিচয় দিয়ে টিকে থাকতে হবে। এখন আমরা যারা গান করি আমাদের একটাই লক্ষ্য থাকে গানের মানগুলো যেন ভালো হয়। ধরুণ আমার একটা গান টিভিতে কিংবা রেডিওতে প্রচার হচ্ছে কিন্তু অনেকেই হয়তো তখন শুনতে পারে নি। বাসায় গিয়ে তিনি ইউটিউবে গানটা শুনে নিলেন। সেদিক থেকে অন্তত ডিজিটাল হওয়ায় শ্রোতাদের কাছে গানগুলো পৌঁছাতে খুব সহজ হচ্ছে। এতে করে গানের শ্রোতাদের চাহিদা পছন্দের ব্যাপারটাও সহজে বোঝা যাচ্ছে। এতে করে আমিও আমার ভুল ত্রুটিগুলো শুধরানোরও ভালো সুযোগ পাচ্ছি।
 
আচ্ছা দর্শক শ্রোতাদের ইতিবাচক মন্তব্যগুলো আপনাকে যেমন আনন্দ দেয়, উত্সাহ যোগায় নেতিবাচক মন্তব্যগুলো কি রকম প্রভাব ফেলে?
সবাই আপনার কাজের ভক্ত হবে না। আপনি একটা কাজ দিয়ে সবাইকে খুশীও করতে পারবেন না। অনেকের ভালো লাগবে অনেকের ভালো লাগবে না এটা স্বাভাবিক। নেতিবাচক দিকগুলো আমার ভবিষ্যতের কাজের জন্য, আমাকে আরও পরিণত করার কাজে ভালো ভূমিকা রাখে। দর্শক শ্রোতাদের কাছে একটাই অনুরোধ থাকবে সেটা হলো গান শুনে কিংবা কাজগুলো দেখে মন্তব্য করার জন্য। কারো কাছে শুনে স্রোতে গা ভাসিয়ে মন্তব্য করা একদমই উচিত্ নয়। আপনাদের জন্যই আমাদের কাজ করা ঠিক তেমনি শ্রোতা-দর্শকদের মন্তব্যগুলো আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।