চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১৯৮৮ সালে শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশের গুলিবর্ষণের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমিনের আদালতে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে এই সমাজ বিজ্ঞানী সাক্ষ্য দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন।
তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক আগের মামলাটি তিন মাস আগে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর হয়। এরপর আদালত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. অনুপম সেনসহ ছয়জনকে সাক্ষ্য দিতে সমন জারি করে। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় মন্ত্রী মোশাররফ আসতে না পারেননি বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেসবাহ।
এইচ এম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি ময়দানে ৮ দলীয় জোটের জনসভায় শেখ হাসিনা যাওয়ার পথে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে নিহত হন হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবারট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডিকে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বিকে দাশ, পংকজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, মসর দত্ত, হাশেম মিয়া, মো. কাশেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, মো. শাহাদাত নামে ২৪ জন। সেদিন শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক অনুপম সেনও ছিলেন।
২৮ বছর আগের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই অধ্যাপক সাক্ষ্যে বলেন, আনুমানিক বেলা ১টার দিকে ট্রাকটি আদালত ভবনের দিকে আসার সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয়। বিভিন্ন জনকে গুলি খেয়ে আমি কাতরাতে দেখিছি। অনেককে প্রাণরক্ষার চেষ্টা করতেও দেখেছি। পরে শুনেছি, গুলিতে মোট ২৪ জন মারা গেছেন।
গুলিবর্ষণের পর আইনজীবীরা মানব বেষ্টনি তৈরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে রক্ষা করে তাকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন।
অনুপম সেন বলেন, গুলিতে নিহতদের কারও লাশ পরিবারকে নিতে দেয়নি তৎকালীন সরকার। হিন্দু-মুসলিম নির্বিচারে সবাইকে বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়ে ফেলে।
আইনজীবী মেজবাহ জানান, আদালত আগামী ২৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছে। সেদিন সাক্ষ্য দিতে গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ, সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি সমন জারি করা হয়েছে।
