আর মাত্র একদিন। ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিলানে শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে কে? ১১তম শিরোপা জিতে নিজেদের আরো উচ্চে নিয়ে যাবে রিয়াল মাদ্রিদ নাকি প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরবে কোচ দিয়েগো সিমিওনেতে উজ্জীবিত অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ? খেলার ধরনের কারণে কিংবদন্তি পেলের পছন্দ রিয়াল।
ইতালিয়ান পত্রিকা ‘লা গ্যাজেটা ডেলা স্পোর্টস’কে দেয়া সাক্ষাত্কারে ব্রাজিলিয়ান গ্রেট বলেন, ‘ফুটবল বিস্ময়ে পূর্ণ। বলা কঠিন কে জিতবে। খেলার সৌন্দর্যের চেয়ে আজকাল ফলটাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেটা কষ্ট দেয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আমার পছন্দ রিয়াল মাদ্রিদকে। কারণ তারা কম রক্ষণাত্মক এবং অধিক শৈল্পিক খেলা খেলে।’ তবে যেই জিতুক, একটি সুন্দর ফুটবল ম্যাচের আশা করছেন পেলে। যা বিমোহিত করবে সমগ্র বিশ্বকে। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ভালো খেলা। আমি ০-০ গোলের ড্র’র চেয়ে ৩-৩ কিংবা ৫-৫ গোলের ড্র’ই সবসময় পছন্দ করি। ফুটবলটা কবিতার মতো। একটা মোহময় জিনিস কাজ করে।’
নিজের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রচারণা চালাতে বর্তমানে মিলানে আছেন পেলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সম্পর্কে কথা বলার পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি কথা বলেছেন তার সেরা পছন্দের খেলোয়াড় নিয়েও। সেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনা-আলফ্রেড ডি স্টেফানোদের তুলনায় লিওনেল মেসিকে এগিয়ে রাখছেন তিনি। পেলে বলেন, ‘সেরা খেলোয়াড় বেছে নেয়াটা অনেক কঠিন। সবসময়ই আমার সঙ্গে কাউকে না কাউকে তুলনা দেয়া হয়েছে। ডি স্টেফানো, তারপর (ইয়োহান) ক্রুইফ, এরপর ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়া, ববি চার্লটন, ম্যারাডোনা—সবাইকে আমার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বর্তমানে মেসিকে আনা হচ্ছে। তাদের সবার তুলনায় আমি লিওকেই বেছে নেব। ওই সবচেয়ে পরিপূর্ণ খেলোয়াড়।’
মেসিকে সবার উপরে বেছে নিলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের প্রশংসা করতে ভুলেননি ব্রাজিল কিংবদন্তি। পেলে বলেন, ‘মেসি সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়। কিন্তু রোনালদো আর নেইমারও অসাধারণ। তারা প্রত্যেকে ফুটবলে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল নিয়ে এসেছে। যা খেলায় নতুনত্ব নিয়ে এসেছে।’
কয়েকদিন আগে ইএসপিএনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে স্বদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারের লজ্জার পর কান্নার কথা বলেছিলেন পেলে। সেই আবেগময় ক্ষণটির কথা আবার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পেলে বলেন, ‘নয় বছর বয়সে আমি আমার বাবাকে কাঁদতে দেখেছিলাম। মারাকানাজোর পর। ১৯৫০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলায় উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিল হারার পর কেঁদেছিলেন বাবা। দুই বছর আগে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারার পর আমার সন্তান আমাকে প্রায় কেঁদে ফেলতে দেখেছিল।’-ইএসপিএন
