‘তাৎক্ষণিক বিচারে জনগণের মাঝে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে’

আপডেট : ২৭ মে ২০১৬, ১৯:৪৭
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) আইনটি যুগোপযোগী ও কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বলে জানালেন মোবাইল কোর্ট সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, তাৎক্ষণিক বিচারে জনগণের মাছে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
শুক্রবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আয়োজনে এক কর্মশালায় একথা বলেন বক্তারা।
 
‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: জননিরাপত্তা ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক একটি কর্মশালায় তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে এর কার্যকরী প্রসার ঘটানোর জন্যও মতামত ব্যক্ত করেন।
 
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট বাংলাদেশে বিভিন্ন ফরমেটে বহুদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থ রক্ষা করে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ২০০৯ সালে মোবাইল কোর্ট আইন পাসের পর সারা দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক বিচারের মাধ্যমে জনগণের মাঝে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিবিড়ভাবে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরীবিক্ষণ করছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, মোবাইল কোর্ট আইনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাস করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজালরোধ, মাদকের অপব্যবহার রোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ইত্যাদি সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে মোবাইল কোর্ট ইতোমধ্যে একটি জনপ্রিয় এবং কার্যকর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এর সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক তফসিলভুক্ত বিভিন্ন আইনের সীমাবদ্ধতা ও সংশোধনীর ওপর আলোকপাত করেন।
 
বিভিন্ন উপাত্ত তুলে ধরে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. শাহিদা আক্তার বলেন, গত ২০১৫ সালে এক বছরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৪ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৬ টাকা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৫৭ হাজার ১৫৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ১লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়।
 
তবে এ কোর্টকে আরো গতিশীল করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় এটুআই প্রজেক্টের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ১৫ টি জেলায় ই- মোবাইল কোর্ট চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল জেলায় ই-মোবাইল কোর্ট চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
 
এ সময় বক্তারা মোবাইল কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ই-মোবাইল কোর্টের জন্য অবশ্যকীয় উপকরণসহ সুসজ্জিত যানবাহন সহকারে পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশেও অনুরুপ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য প্রথম পর্যায়ে বিভাগীয় সদরস্থ জেলায় একটি করে তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ প্রয়োজনীয় উপকরণসহ সজ্জিত যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট ও জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। মোবাইল পরিচালনায় উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ টেকনিক্যাল ডিভাইস বিদেশ থেকে নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধও জানান বক্তারা।
 
যারা খাবারে ভেজাল মিশিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন সেসব ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স বাতিল করে আর যেন কখনও লাইসেন্স না পায় সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় কর্মশালায়।
 
 কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সুজায়েত উল্যা।
 
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক, বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক নুরুল ইসলাম, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রেহান উদ্দিন, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্মৃতি রানী ঘরামী, ডিপিডিসি সচিব মুনীর চৌধুরি, সাবেক সচিব শাহজাহান আলী মোল্লা প্রমুখ।