বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ এমপির বিতর্কিত মন্তব্য

আপডেট : ২৭ মে ২০১৬, ২১:৫২
বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ এমপি সাইমন ডানুজক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দৈনিক ‘দ্য এক্সপ্রেস’ কে দেয়া সাক্ষাতকারে এই ব্রিটিশ এমপি জানায়, ‘বাংলাদেশে যে কোনও সময় গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে। বাংলাদেশে সুশীল সমাজ চুপসে যাচ্ছে এবং সুশীল সমাজের জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে জঙ্গিরা।’
 
২৪ মে প্রকাশিত দ্য ডেইলি এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘অতীতে মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে ক্রমেই জঙ্গিরা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ছুরি ও চাপাতির আঘাতে যাদের খুন করা হয়েছে তাদের হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী। যদিও বাংলাদেশ সরকার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা নাকচ করে দিয়েছে।’
 
দ্য এক্সপ্রেসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইমন ডানজুক বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশ্রয়প্রার্থীরা ব্রিটেনে প্রবেশের চেষ্টা করবে।’ 
 
২০১১ সালে প্রকাশিত আদমশুমারি অনুযায়ী ব্রিটেনে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক রয়েছে। নতুন করে আশ্রয়প্রার্থী ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারকে এখনই এ বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
 
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ এমপি সাইমন ডান্সজুক ব্রিটেন এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নানা বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্য উল্লেখযোগ্য। 
 
সাইমন ডান্সজুক ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউজ অব কমন্স এর রোচডেল এলাকা থেকে নির্বাচিত একজন পার্লামেন্ট সদস্য। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অসাদাচরণের জন্য লেবার পার্টি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। (যে খবরটি ৩১ ডিসেম্বর বিবিতে ফলাও করে প্রচার করা হয়।)
 
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় সে সোপহেনা হাউলিহান নামে একজন চাকুরীপ্রার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। যখন সাইমন তার যৌন লালসা চরিতার্থ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই মেয়েটির দিকে আগায় তখন সেই মেয়েটির বয়স মাত্র ১৭ বছর ছিল। খুবই হাস্যকর ব্যাপার হলো এই ব্রিটিশ এমপি সাইমন এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার আগে শিশু নির্যাতন বিরোধী প্রচারণার জন্য পরিচিত ছিল।
 
ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের এ বছরের ১২ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ওই এমপির বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি অভিযোগ তদন্ত চলছে। শুধু তাই নয় এই এমপি একজন পাড় মাতাল বলেও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
 
ব্রিটেনের ২০১৫ সালের পর্লামেন্ট নির্বাচনের আগে রোচডেল অঞ্চলের বাংলাদেশি ভোটারদের কাছে টানতে সে বলেছিল, আমাদের এমন একজনকে পার্লামেন্টে রাখা উচিত  যে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে কথা বলবে। এ কারণেই এই সাধারণ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।’
 
এমন চটকদার কথা বলে তখন সে বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি ভোটারদেরকে তার পক্ষে টেনেছিল। কিন্তু গত তিনমাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন জায়গাতে বক্তব্য দিয়েছেন এই বলে যে, আমরা কেন বাংলাদেশের পিছনে টাকা খরচ করছি যেখানে ব্রিটেনেই আমাদেরকে  আরো বেশি করে খরচ করার দরকার।