আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বৈঠককে বিএনপির সাজানো নাটক হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই সংবাদ প্রচারের জন্য বিবিসি বাংলাকে প্রতিবাদ পাঠাবে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে সরকার উত্খাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদি এক সাক্ষাত্কারে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের সঙ্গে গতবছর তার সাক্ষাত্ হয়েছিল। বিবিসিকে তিনি জানান, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে দিল্লিতে তার দেখা হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মি. ওয়াজেদের দপ্তরে দু’জনের কথাবার্তা হয়।’ তবে এ ব্যাপারে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিএনপির নেতারা লন্ডনে বসে সাফাদির সঙ্গে জয়ের বৈঠকের নাটক সাজিয়েছে। বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরী আটক হওয়ার পর তারা যে সরকার উত্খাতের গভীর ষড়যন্ত্র করছিল তার বিভিন্ন তথ্য ফাঁস হওয়ার পর জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতেই এ নাটক। আর এর মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি ইসরাইলকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত রিপোর্ট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ‘বিবিসি বাংলার কোনো সাংবাদিক সাফাদির সাক্ষাত্কার নেননি। নাটকটার সিডি বানিয়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া হয়েছে। আর বিবিসি যদি সাক্ষাত্কার নিতো সেটা সাংবাদিকদের নিয়েই নিতো, আর নিঃসন্দেহে তার গুরুত্ব থাকতো। বিবিসির মতো একটা গণমাধ্যম একজনের ধার করা ইন্টারভিউ নিয়ে প্রচার করেছে; যা কারো জন্যই কাম্য নয়। এটা দুঃখজনক।’
এদিকে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহবুব-উল-আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে। তবে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ঘটেছে। আর আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে অবাধ একটি নির্বাচন করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল প্রমুখ।
