টেকনাফে আনসার ব্যারাকে হামলা

হামলার পরিকল্পনায় পাকিস্তানি নাগরিকসহ আরএসও

আপডেট : ৩১ মে ২০১৬, ১৯:২২
কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আনসার ব্যারাকে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় এক পাকিস্তানের এক নাগরিকসহ রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) জড়িত বলে গ্রেফতারকৃত এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আদালতে জবানবন্দি প্রদান করা আসামি নুরুল আবছার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক।
 
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজ উদ্দিনের আদালতে এ আসামিকে হাজির করা হয় বলে জানান টেকনাফ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন।
 
গত ১৩ মে গভীর রাতে টেকনাফের হ্নীলার মোচনী এলাকার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আনসার ব্যারাকে মুখোশ পরিহিত ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আনাসার ব্যারাকের কমান্ডার মো. আলী হোসেন হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় হামলাকারীরা ব্যারাকের অস্ত্রাগার থেকে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০ টি গুলি লুট করে নিয়ে যায়।
 
পরে এ ঘটনায় মোচনী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আনসার ব্যারাকের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন আসামির নামে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন।
 
এ ব্যাপারে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,  আসামি নুরুল আবছার আদালতে আনসার ব্যারাকে হামলার পুরো ঘটনা তুলে ধরেছেন। এ হামলায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক, পাকিস্থানের এক নাগরিক ও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও অংশগ্রহণ করে বলে আদালতের কাছে জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেছে।
 
আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের নাগরিকের নেতৃত্বে আনসার ব্যারাকে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের পরিকল্পনায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এতে পাকিস্তানের এক নাগরিক ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে আসা আরএসওর কয়েকজন সদস্য, হামলার রাতে নৌকা যোগে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা, স্থানীয় শরণার্থী শিবিরের কয়েকজন রোহিঙ্গা এবং কয়েকজন বাংলাদেশির সমন্বয়ে এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে পাকিস্তানি নাগরিকের নাম প্রকাশ করতে তিনি অনীহা জানান।