ফাল্লুজায় আইএস-সেনাবাহিনী তুমুল সংঘর্ষ, অবরুদ্ধ জনগণ

আপডেট : ০১ জুন ২০১৬, ০০:২১
ইরাকে আইএস নির্মূল অভিযানে নামা সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই জঙ্গিদের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইরাকের সরকার চায় প্রথমে ফাল্লুজাকে এই জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্ত করে অন্যান্য এলাকা থেকেও তাদের বিতাড়িত করতে। অভিযান শুরুর পর বড় ধরনের সাফল্য পেলেও গতকাল মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি এলাকায় এই জঙ্গিরা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। সেখানে হাজার হাজার বেসামরিক লোক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
 
সরকারি সৈন্যরা মঙ্গলবার ফাল্লুজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলী নুয়াইমিয়ার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হলে আইএসের বহু যোদ্ধা অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। ফাল্লুজা অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ইরাকি সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আব্দেল ওয়াহাব আল সাদি এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, শ’ খানেকের মত আইএস যোদ্ধা ঐ হামলায় অংশ নেয়। তাদের সাথে ভারি অস্ত্র ছিলো, কিন্তু গাড়ি বোমা বা আত্মঘাতী হামলা চালায়নি।
 
ইরাকি বিশেষ বাহিনীর সূত্র উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আইএস যোদ্ধারা ছটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে হামরা চালিয়েছিলো। কিন্তু কোনটিই তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারেনি। লুকানো টানেলের ভেতর দিয়ে এসে আইএস যোদ্ধারা হামলা চালায়। অনেক স্নাইপারও ব্যবহার করেছে তারা।
 
জেনারেল আব্দেল ওয়াহাব দাবি করেছেন ৭৫ জন আইএস যোদ্ধাকে তারা হত্যা করতে সমর্থ হয়েছেন। তবে ইরাকি বাহিনীর পক্ষে হতাহতের খবর জানা যায়নি। সপ্তাহখানেক ধরে চলা লড়াইয়ের পর শহরে আটকে পড়া ৫০ হাজারের মত বেসামরিক লোকজনের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ফাল্লুজা শহরের লোকজনের কাছে খাবার নেই। খাবারের অভাবে মানুষজন মারা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে মানুষজনকে শহর ছাড়তে বললেও, আইএস জঙ্গিরা তাদের যেতে দিচ্ছে না। তাদেরকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
পালিয়ে আসা লোকজন জানিয়েছেন, আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে না চাইলে লোকজনকে হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। ইরাকের যে দুটো গুরুত্বপূর্ণ শহর আইএসের দখলে তার একটি এই ফাল্লুজা। গত প্রায় আড়াই বছর ধরে ইসলামিক স্টেট এই শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্য শহরটি হচ্ছে মসুল।