বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংস্কারের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। আর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। গত সোমবার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অবশ্য রিজার্ভ চুরির ঘটনার জন্য সুইফট এর দায় আছে। সুইফট কখনো তার দায় এড়াতে পারে না। টাকা উদ্ধার ও সমস্যা সমাধান করতে সুইফটের সাহায্য নিতেই হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্যই ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
রিজার্ভ চুরির পর সরকার গঠিত এ কমিটি ৭৫ দিনের তদন্ত শেষে এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এর আগে ওই কমিটি ৩০ দিন পর অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। সে সময় ড. ফরাসউদ্দিন রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ব্যাংকিং লেনদেনের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সুইফটকেই দায়ী করেছিলেন। সুইফট সংযোগের সঙ্গে স্থানীয় আরটিজিএস সংযোগ দেওয়া ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত না থাকার কথা বললেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন তিনি দেখান এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে।
রিজার্ভ হ্যাকের চার মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার দায় কার সে বিষয়ে একে অপরের উপর দোষারোপ করা হচ্ছে। আর চুরি হওয়া অর্থ ফেরত কবে পাওয়া যাবে সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি নীতি নির্ধারকরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার গ্রাহকের নাম ভুল করায় শ্রীলঙ্কায় আটকে যায়, পরে তা ফেরত আনা হয়। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখান থেকে ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় ওই অর্থ।
