পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে তরুণদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি নেতিবাচক চিন্তা করি তাহলে জীবনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। জাতীয় জীবনে আমাদের যে অপূর্ণতা রয়েছে তা পূরণ করতে হলে ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সংগঠন বেলার সহায়তায় এ সেমিনারের আয়োজন করে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা নিজেরা সচেতন হতে পারি না। অন্যে তাগিদ দিলে পরে আমরা সচেতন হই। এ মনোভাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ইতিবাচক চিন্তা করলে জীবন অনেক সুন্দর হবে। কিন্তু সব কিছুতে নেতাবাচক চিন্তা আনলে জীবনের প্রয়োজনীয় ফুরিয়ে যাবার সাথে সাথে চোখের ঔজ্জলতাও নষ্ট হয়। তরুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে স্বাধীনতা এনেছি। আমাদের জাতীয় জীবনে যে অপূর্নতা আছে তরুন প্রজন্মকে তার পূর্ণতা দিতে হবে।
বাঘ রক্ষাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, জমির পরিমাণ কমছে। এরপরও বন বিভাগ তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী এবং মানুষের সংগ্রাম অতীতেও ছিলো এখনও আছে এবং থাকবে। এ বাস্তবতার মাধ্যমে কিভাবে বাঘ সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়টি আমাদের ভাবতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশে যে বনায়ন একদম কম হচ্ছে তা নয়। শুধু বনভূমিতেই যে বন করতে হবে-এমন ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয়। স্কুল এবং বাড়ির আশপাশেও গাছ লাগানো যায়। ঢাকার আশপাশে গেলে এখন আমরা সবুজের সমারোহ দেখতে পাই। সুন্দরবনও এখন দেখার মতো।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র্রে অবশ্যই সমস্যা থাকবে, কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি কিনা সেটা খেয়াল করতে হবে।
নেপালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা কয়েকটি জায়গায় সামাজিক বনায়নে সফলতা পেয়েছে একথা সত্যি। কিন্তু তাদের পাহাড়গুলো মাইলের পর মাইল ন্যাড়া। আমরাও সিলেটসহ কয়েকটি স্থানে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নেবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার পরিবেশ ও বন রক্ষায় বিদ্যমান আইনগুলো যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন বিভাগ বিদ্যমান বন রক্ষার পাশাপাশি নতুন বনায়নও সৃষ্টি করছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যপ্রাণী হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে মনেকরেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমাদের আগামী প্রজš§কে বাঁচাতে হলে পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই। আশার কথা হচ্ছে সরকার ইতিমধ্যে পরিবেশ রক্ষায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, সবার সচেতনতাই পারে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে।
সেমিনারে মোট তিন প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ‘বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বেলার সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, কয়েকটি বিদ্যুৎ এবং উন্নয়ন প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য হুমকি। তিনি বলেন, গাছের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া আর বনায়ন এক কথা নয়। বিগত বছরগুলোতে দেশের বনভূমির পরিমান তিন শতাংশ হারে কমছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট বনভূমি ছয় শতাংশে নেমেছে। বন রক্ষায় ১৯১২ সালে যে আইন করা হয়েছে তাতে বন বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তব্য কিছুই নেই উল্লেখ করে তিনি এ আইন যুগোপযোগী করার কথা বলেন।
প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম তার প্রবন্ধে বলেন, খাবার ও বাসস্থানের কারনে বাঘ হুমকির মধ্যে রয়েছে। বনাঞ্চল উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বিপন্ন হচ্ছে এ প্রাণীটি।
তিনি বাঘ রক্ষার জন্য শক্ত উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানিয়ে বলেন, এখনো সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। সরকারী এবং এবং বেসরকারি উদ্যোগে এটিকে রক্ষা করতে হবে। বনের উপর নির্ভরশীল মানুসের জন্য তিনি বিকল্প কর্মসংস্থান সুষ্টির ওপরও জোর দেন।
অপর প্রবন্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তা অসিত রঞ্জন পাল বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রজাতির বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু আবার নতুন নতুন প্রাণী যোগও হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ অত্যন্ত সচেতনতার সাথে কাজ করছে। নিয়মিত টহল বাড়ানোর মাধ্যমে বণ্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ দমন করা হচ্ছে। এছাড়া চোরাচালান বন্ধের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাও নিচ্ছে বন বিভাগ।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ।
