প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার কথা বলা হয়েছে। ফলে বেড়ে যেতে পারে এসব পণ্যের দাম। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের সিম-রিম, হাতে তৈরি বিড়ি, সিগারেট, তামাকজাত পণ্য, ওয়াশিং মেশিন, এসি, বাস ও লরির টায়ার, সুগন্ধি, বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, ইউপিএস, আইপিএস, ট্রান্সফরমার, পাথর, রড, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের আমদানি করা বই, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য, হোটেল নির্মাণ যন্ত্রাংশ, আমদানি করা চাল, অপটিক্যাল ফাইবার ও মশা মারার ব্যাট প্রভৃতি।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
মোবাইলের সিম ও বিল: মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহার করে কথা বলাসহ অন্যান্য সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোনের সিম ভিত্তিক সব ধরনের সেবার ওপর গ্রাহকদের খরচ বাড়বে।
তামাক পণ্য: হাতে ও অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি বিড়ির ওপর ১০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রস্তুতকৃত তামাক এবং অন্যান্য সমজাতীয় পদার্থে, তামাকের শুল্কও ১০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সকল ধরনের তামাকজাত পণ্য ও জর্দ্দাগুলের দাম বাড়তে পারে।
নির্মাণ সামগ্রী: নুড়ি পাথরের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ পণ্যটি শুল্কমুক্ত ছিল। ভাঙা বা চূর্ণ পাথরের ওপর ২০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের রড, কাঠের কয়লা, লোহা ও স্টিলের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সুগন্ধি: সুগন্ধির ওপর ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ শুল্ক অব্যাহত থাকলে সুগন্ধির দাম বাড়বে।
বৈদ্যুতিক সামগ্রী: ল্যাম্পহোল্ডার, অপটিক্যাল ফাইবার, তার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দাম বাড়বে।
চাল: আমদানি করা কাড়া (ব্রাউন) চাল, ভাঙা চালের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গম ও ভুট্টা: ভুট্টার আটার ওপর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে গম ও ভুট্টার স্টার্চের ওপর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাঠ্যবই: প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার পাঠ্য বাইয়ের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের ছবি, অঙ্কন ও রঙিন বইয়ের ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওয়াশিং মেশিন: গৃহস্থলীতে ব্যবহার হওয়া জাতীয় ওয়াশিং মেশিনের ওপর আমদানি শুল্ক এক শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করায় কাপড় পরিষ্কার করার এ যন্ত্রের দাম বাড়বে। এছাড়াও আইপিএস-ইউপিএস, ট্রান্সফরমার, এয়ারকুলার, মশা মারার ব্যাটের দাম বাড়তে পারে।
ওষুধ: ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করায় ওষুধের দাম বাড়বে।
রাসায়নিক পণ্য: টেলকম পাউডার, ইসিজি ও আল্ট্রাসাউন্ড পেপার, পাল্পের তৈরি ফিন্টার ব্লকস-এর শুল্ক বাড়ানোর কারণে এসব রাসায়নিক পণ্যের দাম বাড়বে।
বেকারি পণ্য: পাউরুটি, হাতে তৈরি কেক এবং সব ধরনের বিস্কুটের ওপর থেকে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কারণে বেকারি পণ্যের দাম বাড়বে।
