কোচ লুডউইক ডি ক্রুইফ তাজিকিস্তানের কাছে করুণ হারের জন্য ফুটবলারদেরই দায়ী করলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে দুশানবেতে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে বাংলাদেশ দল ৫-০ গোলে পরাজিত হয় স্বাগতিক তাজিকিস্তানের কাছে। তাও আবার প্রথমার্ধেই তিন গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মামুনুলের দল। যদিও ড্র করার আশা নিয়ে তাজিকিস্তান গিয়েছিল তারা।
গত বছরের নভেম্বরেও দুশানবেতে তাজিকিস্তানের কাছে হারের ব্যবধানটা ছিল ৫-০। আবারও সেটাই হলো। ২০১৯ সালে আরব আমিরাতে এশিয়ান কাপ ফুটবলের আসর বসবে। যেখানে খেলার জন্য বাংলাদেশ এবং তাজিকিস্তান প্লেঅফ ম্যাচ খেলছে। এই হারের পর ঢাকায় ৭ জুন ফিরতি ম্যাচে বাংলাদেশ ৫-০ ব্যবধানেরও বেশি গোলে জিতলে তবেই সুযোগ আসবে। না হলে ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে আরেকটা সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
ক্রুইফ অবশ্য এই হারকে হতাশার বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘২-০ কিংবা ৩-১ গোলের হার হলেও আমি মেনে নিতে পারতাম। আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য টেকটিক্যাল অনুশীলন করেছিলাম। এ খেলাটিতে আমরা কর্নার কিক থেকে একটি এবং ফ্রিকিক থেকে দুটি গোল হজম করি। আমি সব ধরনের অজুহাত মেনে নিতে পারতাম। যদি খেলোয়াড়রা পেশাদার হতো তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা তাদের যা করা উচিত কিংবা করার জন্য নির্দেশিত ছিল, তা করতো।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দুশানবে থেকে কোচের খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনের উদ্ধৃতি পাঠায়। তা থেকে আরো জানা যায় কোচ বলেছেন তিনি এ হারে হতাশ। এ জন্য তিনি ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের গত দুই তিন মাসে নিজেদের মাঠে কোনো ম্যাচ না খেলাকেও দায়ী করেন।
ডাচ কোচ বলেন,‘তাজিকিস্তানের মতো বিপক্ষকে সামলানোর মতো অবস্থায় ছিলাম না আমরা। তাজিকিস্তান ‘হাই টেম্পো পজিশন’ খেলেছে যেটা আমরা হল্যান্ডে খেলে থাকি। আমি মনে করি তারা আজ যা করেছে তা ছিল দারুণ এবং বাংলাদেশের জন্য উদাহরণ। আপনারা দেখেছেন তাজিকিস্তান দশ মাস আগেও ১-১ গোলে ড্র করেছে। কিন্তু আজ আমরা তাদের খেলায় ভিন্নতা দেখলাম।’
তার মতে বাংলাদেশ দল প্রথমার্ধে ভালো খেলেছে। কিন্তু বিপক্ষের বিদেশি লিগে খেলা ফুটবলাররা বাংলাদেশের ভুলগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি তাজিকিস্তানকে ঢাকার মাঠে ৭ জুন ফিরতি ম্যাচটিতে গোল বঞ্চিত রেখে জিততে চান বলে জানান। ক্রুইফ বলেন,‘আমি নিজেদের মাঠের খেলাটি জিততে চাই। আমরা আবার আমাদের টেকটিক্যাল পরিকল্পনা করবো এবং অবশ্যই জাতির সম্মানার্থে খেলাটিতে জিততে চাই।’
প্রসঙ্গক্রমে ক্রুইফ বলেন,‘বাংলাদেশে ৮/১০ বছর বয়স থেকে ফুটবল খেলোয়াড় তৈরির মতো কোনো যথাযথ শিক্ষাগত পরিকল্পনা নেই আমাদের। তবে আমরা তৃণমূলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করছি। আশা করি আমরাও একদিন এশিয়ায় ভাল ফুটবল জাতিতে পরিণত হবো।’
কোচ যাই বলুন না কেন, বাফুফে গতকাল দুশানবে থেকে যেসব ছবি পাঠিয়েছে তাতে অবশ্য খেলোয়াড়দের এই হারে কোনো ভাবান্তর হয়েছে বলে মনে হয়নি। কেননা তাজিকদের মাঠে মামুনুল, সোহেল রানা, তপু বর্মনরা বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ করতে না পারলেও ঢাকায় প্রাপ্ত ছবিগুলোতে তারা ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। যেটি কেবল জয়ী দলের ক্ষেত্রেই মানায়।
