পুরো ম্যাচই যেন ছিলো ব্যাটসম্যানদের। একের পর এক ঝড় তুলেছেন হাসানুজ্জামান, তাসামুল, বিপুল শর্মা ও মুশফিকুর রহিম। ব্যাটসম্যানদের এই ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে দারুণ জয় পেয়েছে মাশরাফির কলাবাগান ক্রীড়াচক্র।
শুরুতে হাসানুজ্জামানের ঝড়, এরপর তানভিরের সঙ্গে ম্যাচ জয়ী অপরাজেয় জুটিতে তাসামুলের অসাধারণ শতক। এই তিনজনের ব্যাটে আড়াল হয়ে গেল বিপুল শর্মার শতক আর মুশফিকুর রহিমের দারুণ ইনিংস। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহামেডানকে ৬ উইকেটে হারাল কলাবাগান।
লড়াইটি ছিল বাংলাদেশের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কের। তাতে শেষ হাসি মাশরাফির। এক সময় অবনমনের দ্বারপ্রান্তে থাকা কলাবাগানের সুপার লিগ সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো এই জয়ে। আর একসময় শীর্ষে থাকা মোহামেডানকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলা বিপুল শর্মা ঢাকা লিগে প্রথম ম্যাচেই করেছেন ঝড়ো শতক। দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন মুশফিকও। কিন্তু ২৯১ রানের বড় সংগ্রহ গড়েও পারেনি মোহামেডান। হাসানের তাণ্ডবের পর অসাধরণ শতকে দলকে জিতিয়েছেন তাসামুল।
রান তাড়ায় কলাবাগান প্রথম ওভারেই হারায় জসিমউদ্দিনকে। এবারের লিগে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে দ্বিতীয় বলেই তুলে নেন নাজমুল হোসেন। তবে শুরুর সেই অস্বস্তি মুহূর্তেই উধাও হাসানের ব্যাটে। খুনে ব্যাটিংয়ে মোহামেডানের বোলারদের দিশাহারা করে ছাড়েন ডানহাতি ওপেনার।
২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান অর্ধশতক স্পর্শ করেছেন ২৫ বলে। এবারের লিগে এখনও পর্যন্ত যা দ্রুততম অর্ধশতক। আরেকপাশ থেকে সিঙ্গেল নিয়ে হাসানকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন তাসামুল।
পেশি শক্তি আর দুর্দান্ত টাইমিংয়ে চোখধাঁধানো সব শট খেলেছেন হাসান। সোজা ব্যাটে লং অন, লং অফ দিয়েই ছিল ছক্কাগুলির বেশিরভাগ। কোনো বোলারই থামাতে পারছিলেন না তাকে।
শেষ পর্যন্ত থামলেন নির্বিষ এক বলে। নাঈম ইসলামে স্টাম্প সোজা এক বল ক্রস ব্যাটে অন সাইডে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ। ৫৩ বলে ৯৫ রানের ইনিংসে ততক্ষণে প্রায় বিধ্বস্ত মোহামেডান। ৪টি চারের সঙ্গে ছিল দ্বিগুণ সংখ্যক ছক্কা!
প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ভারতীয় ব্যাটসম্যান পরস ডোগরা ও মেহরাব জুনিয়রকে দ্রুতই হারায় কলাবাগান। শঙ্কার মেঘটাও জমতে শুরু করে। জয়ের মত অবস্থায় থেকে হারের নজির তো এবার আগেও দেখিয়েছে দলটি! সেই কালো মেঘ ফুঁড়ে আলোর রেখা মেলে তাসামুলের ব্যাটে। যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তানভির হায়দার।
এই ম্যাচের আগে লিগে তাসামুল ছিলেন কলাবাগানের জন্য বড় হতাশা। আগের ৯ ম্যাচের ৫টি তিরিশ ছুঁয়েও অর্ধশতক করতে পারেননি একটিও। এবার খানিকটা প্রায়শ্চিত্ত করলেন অপরাজিত শতকে। হাসান আউট হওয়ার পর দারুণ দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে অপরাজিত ১২৯ বলে।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি তার প্রথম শতক। আগের সর্বোচ্চ ছিল মাত্র ৬০। লিগে প্রথম অর্ধশতক করে তানভির অপরাজিত ৫৯ বলে ৫২ রানে।
পঞ্চম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ১২১ বলে ১২৯ রানের। প্রায় তিনশ ছোঁয়া রান তাড়া করেও কলাবাগানের জয় ৪১ বল বাকি রেখে! অথচ প্রথম ইনিংস শেষে মোহামেডানকেই মনে হচ্ছিলো ফেভারিট। শুরুটা অবশ্য খুব ভালো ছিল না তাদের। ৬৯ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট। চতুর্থ উইকেটে বিপুল ও মুশফিক ঘুরিয়ে দেন মোড়।
শুরু থেকেই দারুণ ব্যাট করেছেন বিপুল। একের পর এক ছক্কা মেরেছেন অনায়াসে। আরেকপাশে রানের চাকা সচল রেখেছেন মুশফিকও। ৬২ বলে অর্ধশতক ছুঁয়ছিলেন বিপুল। সেখান থেকে শতক মাত্র ২৩ বলেই। পরের বলেই অবশ্য আউট হয়েছেন। ৬ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৬ বলে ১০০।
শফিক করেছেন ৭১ বলে ৮৫। শেষ দিকে দুটি করে ছক্কায় ১০ বলে ২১ করেছেন আরিফুল, ৭ বলে ১৭ হাবিবুর। শেষ ১০ ওভারে মোহামেডান তুলেছে ৯২ রান!
কিন্তু কলাবাগানের পেশাদারী রান তাড়ায় যথেষ্ট হয়নি সেটিও। বিপুল শর্মা নন, ম্যাচর নায়ক তাই তাসামুল ও হাসান।
