দীর্ঘ এক বছর বিকল থাকার পর আবারও সচল হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। এর মাধ্যমে দেশে এই প্রথমবারের মত দেশি প্রকৌশলীরা কোনো উদ্ধারকারী জাহাজ মেরামত করলো।
এর মাধ্যমে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জাহাজ উদ্ধার কার্যক্রম বেগবান হওয়ার পাশাপাশি দেশেই উদ্ধারকারী জাহাজ তৈরির পথ খুললো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) পাঁচ নং ঘাটে জাহাজটি মেরামত করেন থ্রেসল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রত্যয়ের কম্পিউটার পরিচালিত অটোমেটিক লোড মিটার (স্বয়ংক্রিয় ওজন নির্ণয় যন্ত্র) গত এক বছর ধরে নষ্ট থাকায় জাহাজটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এটি মেরামতের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার যে প্রতিষ্ঠান জাহাজটি সরবরাহ করেছে ওই কোম্পানির সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পায়নি। এই অবস্থায় বিআইডাব্লিউটিএ স্থানীয়ভাবে অটোমেটিক লোড মিটার ঠিক করার উদ্যোগ নেয়। খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড মেরামতের দায়িত্ব পেয়ে এ কাজে নিযুক্ত করে থ্রেসল্ড ইঞ্জিনিয়ারিংকে। কয়েক মাস চেষ্টা করে তারা মিটারটি কার্যক্ষম করে তুলে।
২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল দুর্ঘটনা কবলিত নৌযান উদ্ধার কাজের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুইটি জাহাজ ক্রয় করে বিআইডব্লিউটিএ। নির্ভীক ও প্রত্যয় নামের জাহাজ দুটির মিলিত ক্ষমতা ৫০০ মেট্রিক টন।
প্রায় ৩৮ বছর পর বিআইডব্লিউটিএ’র বহরে নতুন এ দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ যুক্ত হয়। এর আগে ১৯৭৪ সালে হামজা ও রুস্তম নামে দু’টি জাহাজ আনা হয়। ওই দুটির প্রতিটির ক্ষমতা ছিল ৬০ টন।
এ প্রসঙ্গে থ্রেসল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমান্ডার (অব.) এম মনোয়ারুল করিম তালুকদার বলেন, লোড মিটার ঠিক না থাকলে ওজন পরিমাপ করা যায় না। আর ওজন পরিমাপ করা না গেলে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এর আগে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরণের কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে তুলতে পারিনি। এ সাফল্য সমুদ্র জাহাজ প্রকৌশলে উদ্যোগী হতে আমাদের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৬ মে প্রথমবারের মত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী এমভি মিরাজ-৪ নামের লঞ্চ উদ্ধার কাজ করে।
