শনিবার হকি মাঠে মোহামেডান-বাংলাদেশ বয়েজ ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষের দু’জন খেলোয়াড়কে মারধরের অভিযোগে দু’ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আসাদুজ্জামান চন্দন।
অন্যদিকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে গন্ডগোলে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে ওয়ারী ক্লাবের কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলাম নাজুকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।
তাছাড়া টার্ফের পাশে অবস্থিত টেন্টে এক ক্লাবের ১৮ জন খেলোয়াড়, চারজন কর্মকর্তা ও দু’জন বয় থাকতে পারবেন। তবে ম্যানেজার ছাড়া কোন কর্মকর্তাই টেন্টের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারবে না। শনিবার রাতে হকি লীগ কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান কমিটির সম্পাদক কাজী মইনুজ্জামান পিলা।
প্রিমিয়ার লীগের বাইলজ, আইন কানুন এমনকি ডিসিপ্লিনারী কমিটিও রয়েছে। তারপরও শৃংখলাহীন হয়ে উঠছেন হকি খেলোয়াড়রা। হকি মাঠে বড়-ছোট দলগুলোর প্রায় প্রত্যেকটি ম্যাচে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। নির্বিঘ্নভাবে শেষ হতে পারছে না কোন ম্যাচই। এ নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও রয়েছে অন্য ক্লাবের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের। তারপরও সমস্যার শেষ নেই হকিতে। সর্বশেষ মোহামেডান ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। শনিবার অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচের শুরু থেকেই আসাদুজ্জামান চন্দন সবর নজর আসেন। কোন কিছু হলেই যেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে যাওয়া তার স্বভাব হয়ে গেছে।
শনিবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের পাকিস্তানী দু’ভাই সিরাজ আলী ও শাহবাজ আলীকে মারধর করেন তিনি। যার ফলে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে অবশেষে লাল কার্ড দেখে স্টেডিয়াম ছাড়তে হয় চন্দনকে। পরে লীগ কমিটির সভায় তাকে দু’ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে রেলওয়ে এবং ওয়ারীর বিপক্ষে পরের দু’টি ম্যাচ খেলতে পারছেন না তিনি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ওয়ারী ও সাধারণ বীমার ম্যাচে গন্ডগোল করার অভিযোগে ওয়ারীর কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলাম নাজুকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। হকি টার্ফের এমন গন্ডগোলে ঢাকায় থাকতে চাইছেন না বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের পাকিস্তানি খেলোয়াড়রাও। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. হুমায়ুন বলেন, চন্দন আমাদের দু’পাকিস্তানি খেলোয়াড় সিরাজ আলী ও শাহবাজ আলীকে থাপ্পড় মেরেছেন।
তাই ওই দু’পাকিস্তানি আর খেলতে চাইছে না। আসলে হকি মাঠে ধীরে ধীরে অসহিষ্ণুতা বাড়ছেই। আর এটা হচ্ছে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামোর জন্যই। কঠোর কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তারা। এমনকি ডিসিপ্লিনারী কমিটিও এসব ঘটনার কোন শাস্তির সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। ফলে এমন ঘটনা বাড়ছেই। যার প্রভাব পড়ছে বিদেশি খেলোয়াড়দের উপর। বাসস
