'২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে লবিস্ট নিয়োগে সক্ষম মীর কাসেম'

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৬, ২১:১৭
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, মীর কাসেম একজন প্রতাপশালী ব্যক্তি। তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বানচাল করতে লবিস্ট নিয়োগে ২৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সক্ষম।
 
প্রসিকিউশনের কঠোর সমালোচনা করে আদালত রায়ে বলে, এই মামলা পরিচালনায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুজন কৌসুলির মধ্যে কোন সমন্বয় ছিল না। খণ্ডিতভাবে তারা মামলা পরিচালনা করেছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের মধ্যে যারা দক্ষ ছিলেন এ ধরনের মামলা পরিচালনা করতে তাদেরকেও এখানে নিয়োগ করা হয়নি।
 
বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে রায়ে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল তার শুনানিতে বলেছেন যে মীর কাসেম আলী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বানচাল করতে লবিস্ট ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে। যদিও আসামি পক্ষ বলেছে, এ অভিযোগের ভিত্তি নেই। তবে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে কি হয়নি সেটা বিচার্য বিষয়। অ্যাটর্নি জেনারেল লবিস্ট ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার বিষয়ে একটি রশিদ দাখিল করেন, এ দ্বারা প্রমাণিত হয় আসামি খুবই অর্থশালী ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামির দাখিল করা জামিন আবেদনে এর প্রমাণ মেলে। জামিন আবেদনে বলা হয়, তিনি (মীর কাসেম আলী) একজন সফল ব্যবসায়ী। এসব কিছু প্রমাণ করে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বানচাল করতে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করার সামর্থ্য রাখেন।
 
আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের পক্ষে দুই প্রসিকিউটর মামলাটি পরিচালনা করেন। তারা যৌথভাবে মামলাটি পরিচালনা করলেওসেটা করেছেন খণ্ডিতভাবে (পিসমিল বেসিস)। দুজন প্রসিসিকিউটর এই মামলাটি পরিচালনা করেছেন এটা দোষের কিছু নয়। বরং একাধিক প্রসিকিউটর দ্বারা একটি মামলা পরিচালনা করা ভাল। তবে একাধিক প্রসিকিউটর একটি মামলায় যৌথভাবে যুক্ত থাকলে তাদের মধ্যে পরামর্শ, আলোচনা ও সমন্বয় থাকতে হবে। ওই দুজন প্রসিকিউটর এই মামলাটি সমন্বয় না করে যৌথভাবে পরিচালনা করাটা ভুল ছিল।
 
রায়ে বলা হয়, একজন প্রসিকিউটর কিছু সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন, আরেকজন প্রসিকিউটর অন্য সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন। এতে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব (ল্যাক অব সিকুয়েন্স) তৈরি হয়েছে। মামলা পরিচালনাকারী দুজন প্রসিকিউটর সাক্ষ্য ও জেরার সময় একসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না। সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আমরা একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, দুই প্রসিকিউটরের মধ্যে মামলা পরিচালনায় কোন সমন্বয় ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে আমরা জেনেছি, এই ধরণের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই অভিজ্ঞ ও দক্ষ দুজন প্রসিকিউটর প্রসিকিউশনে আছেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তারা এই মামলায় নেই।   
 
সোমবার আপিল বিভাগ এই রায় প্রকাশ করে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির বেঞ্চ গত ৮ মার্চ মীর কাসেমের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।