ঝুঁকিপূর্ণ :হাইকোর্টে মৌচাক মার্কেট বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৬, ০০:৪৯
রাজধানীর মালিবাগে মৌচাক মার্কেটের দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বুয়েটের পরীক্ষণ প্রতিবেদনের আলোকে ভবনটি সংস্কার করা বা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সক্ষমতা সনদ না পাওয়া পর্যন্ত ভবনের দোকানপাট বন্ধ রাখতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব এবং রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। এ ছাড়া ওই ভবন সংস্কারে রাজউকের নির্দেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দোকান খালি করতে কেন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তাসহ সাত বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুর রহমান বলেন, আদালতের আদেশের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। আদেশের অনুলিপি পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ঢাকার মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত মধ্যবিত্তের জনপ্রিয় বিপণী বিতান মৌচাক মার্কেটে বিভিন্ন পণ্যের কয়েকশ দোকান রয়েছে। কিন্তু ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৪ সালের ৭ মে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মৌচাক মার্কেটের ভবন মালিককে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, ইমারতটি জীর্ণ ও দৃশ্যত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতীয়মান হওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক কাঠামোগত উপযুক্ততার সনদ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি রাজউককে দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ভবনটির কাঠামোগত উপযুক্ততা নিশ্চিত হয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলো। এরপর বুয়েট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন রাজউকে দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে রাজউক গত ২ মে ভবন মালিককে আরেকটি চিঠি দিয়ে বলে, বুয়েট প্রণীত কাঠামোগত মূল্যায়ন প্রতিবেদনের পরামর্শ ও কর্তৃপক্ষের ওই নির্দেশনা সত্ত্বেও কাঠামোগত ঝুঁকি হ্রাসে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দায়িত্বহীনভাবে মার্কেট ব্যবহার অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইমারত নির্মাণ আইনের লঙ্ঘন। এ অবস্থায় মার্কেটটির ব্যবহার বন্ধ করে বুয়েট প্রণীত নকশা মোতাবেক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজ অবিলম্বে শুরু করার জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হলো। কাঠামোগত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহারের দরুন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ভবনের মালিক ও তার ব্যবস্থাপনা দায়ী থাকবে। এজন্য ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি চূড়ান্ত নোটিস বলে গণ্য হবে।
 
রাজউকের এ চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন মৌচাক মার্কেটের ভবন মালিক আশরাফ কামাল পাশা। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মোতাহার হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান শুনানি করেন। শুনানিতে ডিএজি বলেন, ভবনটি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী তৈরি হয়নি বলে ঝুঁকিপূর্ণ। ঈদকে সামনে রেখে এই মার্কেটে ক্রেতা সমাগম বেশি হবে। ফলে যে কোনো সময় ধসে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। যদি এ ধরনের দুর্ঘটনা হয় তাহলে এর দায়-দায়িত্ব কে নেবে? শুনানি শেষে হাইকোর্ট বন্ধের আদেশ দেয়।