ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা ২০১৬ সালের বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ৩৬ নম্বরে। মার্কিন সাময়িকীটির গতবারের এ তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ৫৯তম। এ বছর আরো উপরের দিকে উঠে এসেছেন শেখ হাসিনা।
ষষ্ঠবারের মতো তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল। দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। মাইক্রোসফটের মালিক বিল গেইটসের স্ত্রী মেলিন্ডা গেইটস এবার একধাপ পিছিয়ে রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে। তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন গতবারের চতুর্থ স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জ্যানেট ইয়েলেন। শীর্ষ দশে আরো রয়েছেন জেনারেল মটরসের সিইও মেরি বারা (৫), আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লগার্ড (৬), ফেসবুকের সিওও শেরিল স্যান্ডবার্গ (৭), ইউটিউবের সিইও সুসান ওজসিসকি (৮), এইপি’র সিইও মেগ হুইটম্যান (৯) ও দশম স্থানে রয়েছেন স্যান্টানডার গ্রুপের চেয়ার আনা প্যাট্রিসিয়া বোতিন। এবার মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ঠাঁই পাননি শীর্ষ দশে। গতবার তিনি ১০ম স্থানে থাকলেও এবার তার অবস্থান ১৩তম।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ফোর্বস বলেছে, ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বের অষ্টম জনবহুল (জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ) দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। সমালোচকরা মনে করেন, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সমকামীদের অধিকার রক্ষায় যারা কাজ করছেন তাদের ওপর সম্প্রতি যেসব ‘হেইট ক্রাইম’ ঘটেছে তা মোকাবিলা করার ক্ষমতা শেখ হাসিনার আছে এবং তার সেই প্রভাব প্রয়োগ করা উচিত। যদিও এসব হামলার বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকার অনেকটাই নীরব এবং প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এসব ঘটনায় ইসলামী চরমপন্থীরা জড়িত নয় বলে দাবি করছে।
এবারের তালিকা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে ফোর্বস বলেছে, রাজনীতি, ব্যবসা, বিত্ত, গণমাধ্যম, জনসেবা, অর্থ, এনজিও এবং প্রযুক্তি খাতে প্রতিনিধিত্বকারী ২৯ দেশের নারীরা আছেন ১০০ জনের এ তালিকায়। যার ৫১ জনই যুক্তরাষ্ট্রের; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নয়জন চীনের। বলা হয়েছে, বিশ্বে ২০০৫ সালের পর নারী নেতার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এ বছর তালিকায় আসা নারীরা এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বের অর্ধেক মানুষকে প্রভাবিত করেন।
তালিকার ১০০ জনের গড় বয়স ৫৭ বছর। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম ৪১ বছর বয়স ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী মেরিজা মেয়ের। সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী হিসেবে তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ৯০ বছর বয়সী রানির অবস্থান ২৯তম। গতবার তার অবস্থান ছিল ৪১তম। এবারের তালিকায় ২৬তম স্থানে রয়েছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল এনএলডির নেতা অং সান সু চি।
