‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতরা বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় জড়িত

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৬, ১৯:৩৫
ঢাকা ও রাজশাহীতে সোমবার রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত তিন জেএমবি সদস্য বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 
নিহতদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
 
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সন্ত্রাস দমন ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে নিহতদের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
 
তিনি বলেন, ঢাকায় নিহত দুজন হলেন- তারেক হাসান নিলু ওরফে ওসমান (৩২) এবং সুলতান মাহমুদ ওরফে কামাল ওরফে রানা (৪০)। এদের মধ্যে জয়পুরহাটের বাসিন্দা ওসমান জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতা। অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ড ছাড়াও দিনাজপুরের কাহারোলে ইসকন মন্দিরে হামলায় জড়িত ছিলেন তিনি। জেএমবির মধ্যম পর্যায়ের নেতা কামাল বগুড়ার শিয়া মসজিদে গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যা মামলার আসামি। তার বাড়ি দিনাজপুরে।
 
গত ২৪ এপ্রিল রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে ওসমান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, ওই হত্যায় এর আগে জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আমরা জানতে পারি, নিহত শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যায় সে (ওসমান) সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছে এবং উনাকে সে নিজের হাতে কুপিয়েছে।
 
গত ১০ ডিসেম্বর দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) একটি মন্দিরে কীর্তন ও ধর্মসভা চলার সময় সন্ত্রাসীদের গুলি ও হাতবোমা হামলায় দুজন আহত হন। সে সময় হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় অস্ত্রসহ এক জেএমবি সদস্যকে ধরে পুলিশে দেয় জনতা। ওই হামলায়ও ওসমানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
বন্দুকযুদ্ধে নিহত অন্য যুবক কামালকে নিয়ে তিনি বলেন, বগুড়ার শিয়া মসজিদে যে গুলি এবং বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদিকে রাজশাহীতে নিহত জামাল উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কালীনগর লক্ষ্মীপুর গ্রামের তাবজুল হকের ছেলে বলে গোদাগাড়ী থানার ওসি ফরহাদ হোসেন জানান।
 
তিনি বলেন, গত বছর বাগমারার সৈয়দপুর চকপাড়া আহমদিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত যুবককে সেখানে বোমা নিতে সহযোগিতা করেছিলেন জেএমবির সদস্য জামাল। গত ২৫ ডিসেম্বর ওই ঘটনায় নিহতের পরিচয় না পাওয়ায় তার লাশ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম।
 
ওসি বলেন, সোমবার জালালকে আটকের পর মসজিদে বোমায় নিহত ওই যুবকের পরিচয় জানতে পেরেছেন তারা। তিনি জামালের পাশের গ্রাম রূপনগরের আবু সালেকের ছেলে তারেক আজিজ। তারেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার মা তাসলিমাকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি ওই ঘটনায় নিহত যুবক তার ছেলে বলে স্বীকার করেছেন। জামাল ও তাসলিমাকে নিয়ে তাদের আরেক সহযোগীকে ধরতে রাত ৩টার দিকে ফরাদপুর চাপড়া গ্রামে পুলিশ অভিযানে গেলে জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলিতে জামাল নিহত হন।