আলমডাঙ্গায় শিক্ষকদের লাখ টাকা রিশোর সমন্বয়কের পকেটে

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২৩:০৮

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কর্মরত এনজিও ‘রিশো’র সমন্বয়ক দারুস সালামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকরা প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

শিক্ষক-শিক্ষিকারা অভিযোগ করেন, রিশোর সমন্বয়ক দারুস সালাম তাদের প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

উপজেলাব্যাপী মৌলিক গণশিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োগ পাওয়া ৬শ শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য এক মাসের বরাদ্দের প্রায় ৯০ হাজার টাকা পকেটে ঢুকিয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রের শিক্ষকের জন্য ঘর ভাড়া ৫ শ টাকা, সিএমসির মিটিং বাবদ দেড়শ টাকা ও বিদ্যুৎ বিল ১শ টাকাসহ মাসিক মোট সাড়ে ৬শ টাকা সরকারি বরাদ্দ রয়েছে। কিন্ত দারুস সালাম প্রতি শিক্ষককে সাড়ে ৩শ টাকা হারে দিচ্ছে।

৩শ টাকা কেন কম দিচ্ছেন জানতে চাইলে রিশোর সমন্বয়কের কাছ থেকে কোন সদুত্তর মেলেনি। সে টাকা কম দেওয়ার কথা জানিয়ে বলে, ‘আমাকে সুযোগ দিলে ওই টাকা ফিরিয়ে দেবো।’

বাংলাদেশ সরকারের গণশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামীণ জনপদে মৌলিক গণশিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে এনজিও রিশো। শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে গণশিক্ষার প্রোগ্রাম অফিসার সাঈদ ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে রিশোর সমন্বয়ক দারুস সালাম উপজেলা ভবনে ৬শ শিক্ষক-শিক্ষিকার মাসিক বেতন দিতে শুরু করেন। এরই মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভবনের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ ছাত্রীর সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ধরা পড়ে গণধোলাই

এনজিও রিশো মৌলিক গণশিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ৩শ স্কুলে কার্যক্রম চালু করে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরে। প্রতিটি স্কুলে একজন পুরুষ ও একজন করে মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনমাস পর প্রথম মাসের বেতন দিলেও ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও সিএসসি মিটিং বাবদ প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা কেটে নেওয়া হয়। আর এতেই প্রতিবাদ মুখোর হয়ে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পরে আত্মসাতকৃত টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে মর্মে ছাড়া পান রিশোর সমন্বয়ক দারুস সালাম।

ইত্তেফাক/নূহু