শিক্ষক লাঞ্ছনা : পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে সময় চেয়ে আবেদন

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৬, ২১:৪০
নারায়ণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে সময় চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। ঘটনার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে তারা আরো চারদিন সময় চেয়ে এ আবেদন করেছেন। তারা বলেছেন, ওই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।  
 
এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছেন, শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা সত্য। তবে এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি করে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা একটি তদন্ত কমিটির কাজ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্বপদে বহাল করার পর তিনি যাতে সঠিকভাবে ও নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে পালন করা যায় সেজন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
 
বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চে এ বিষয়ের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে।
 
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া এ প্রতিবেদনের বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন দিয়েছেন। আর পুলিশ সুপার এবং ওসি সময় চেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ওই কান ধরে ওঠবস করার ঘটনা সত্য।
 
ধর্ম নিয়ে কুটুক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে বলা হয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক গত ২৯ মে প্রশাসনের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, এই প্রতিবেদন দায়সারা গোছের। একইসঙ্গে তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়।