প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।'
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দেয়া এক বাণীতে এই আহবান জানান। আইএলও দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে 'ইন্ড চাইল্ড লেবার ইন সাপ্লাই চেইন : ইটস এভরিওয়ান বিজনেস।'
বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, 'সরকার শিশুদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে আমরা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নিরসন বিষয়ক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছি। শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং শিশুশ্রম বিষয়ক কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ৩৮ ধরণের কাজকে চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।'
২০০৩ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শিশুশ্রম সমীক্ষার কথা তুলে ধরে বলেন, 'তখন বাংলাদেশে শ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ছিল ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন যা আমাদের সরকারের শিশুশ্রম সমীক্ষা-২০১৩ অনুযায়ী হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে শিশুশ্রম হ্রাসে এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের প্রত্যাহার করে তাদেরকে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচি হতদরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে ‘সবার জন্য শিক্ষা’র আওতায় সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ উপবৃত্তি প্রদান এবং দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে।
