পুরোহিত ও সেবক খুনের ঘটনায় কোটালীপাড়ায় আতঙ্ক

আপডেট : ১২ জুন ২০১৬, ০৮:৪৩
ঝিনাইদহে পুরোহিত অনন্ত গোপাল ও পাবনায় সেবক নিত্য রঞ্জন পান্ডে খুনের ঘটনার পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও সেবাশ্রমের পুরোহিত, সেবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক মন্দির ও সেবাশ্রমের পুরোহিত এবং সেবকরা খুনের আতঙ্কে মন্দির ছেড়ে অন্যত্র থাকার চিন্তা করছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
 
জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মন্দির ও সেবাশ্রম রয়েছে। এ সব মন্দির ও সেবাশ্রমে সহস্রাধিক পুরোহিত ও সেবক কর্মরত রয়েছেন। ঝিনাইদহ ও পাবনার ঘটনার পরে এ সকল পুরোহিত ও সেবকরা খুন আতংকে দিন পার করছে। উপজেলার পারকোণা কেন্দ্রীয় গনেশ পাগল সেবাশ্রমের সেবাইত দিপক পান্ডে বলেন, ঝিনাইদহ ও পাবনার ঘটনার পর আমিও আতঙ্কে আছি। প্রতিদিন রাতে আমি এই সেবাশ্রমে থাকি। সন্ত্রাসীরা কখন এসে আমাকে খুন করে এই ভয়ে ভয়ে রাত কাটাই। তাই আমি এখান থেকে অন্যত্র চলে যাবার চিন্তা করছি।
 
ভট্টের বাগান নিশানাথ খোলার সাধারণ সম্পাদক, পুরোহিত রতন আচার্য্য বলেন, আমার অনেক আত্মীয়-স্বজন কোটালীপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুরোহিতের কাজ করে। আমার অনেকের সাথেই কথা হয়েছে। তারা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
 
নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক পুরোহিত বলেন, হুজিনেতা মুফতি হান্নান, গাজীপুর কোর্ট চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের অন্যতম আসামি ফ্লাক্স বোমার কারিগর জঙ্গি নেতা এনায়েত ও চট্টগ্রামে বিপুল অস্ত্র নিয়ে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি নেতা আমীর হোসেনের বাড়ি এই কোটালীপাড়ায়। তাই আমরা আতঙ্কে আছি।
 
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ফারুক বলেন, ঝিনাইদহ ও পাবনার ঘটনার পর আমরা এ উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি। তবে কোটালীপাড়ায় যে পরিমাণ মন্দির ও সেবাশ্রম রয়েছে তাতে শুধু পুলিশের পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া কষ্টসাধ্য। তাই উপজেলা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাধারণ জনগণের এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।