সংস্কারের নামে তিন মাস আগে তোলা হয়েছে সড়কের পিচ। এতে ১০ কি.মি সড়ক জুড়ে বেরিয়েছে ইটের সুরকি আর পাথর। সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দে একাকার হয়ে আছে। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে। গুরুদাসপুর-বিলদহর সড়কের চিত্র এটি।
নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম এন্টারপ্রাইজ সড়কটির সংস্কার কাজ পান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করে সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় পিচ তুলে ফেলা হয়েছে। এরপর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আর কোনো খোঁজ নেই। সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সৃষ্ট বড় বড় গর্ত পূরণ করা হয়নি। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। গত পাঁচ বছরে ওই সড়কে ছোট বড় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া ছোট পাথরে সহজেই নষ্ট হচ্ছে সড়কে চলাচলকারী গাড়ির টায়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ।
নাটোর সড়ক ও জনপথ(সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১০কি.মি সড়কের সংস্কার ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৭কোটি টাকা। ২৯ ফেব্রুয়ারি হতে ২৯ আগষ্টের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গড়িমসিতে সাড়ে চার মাসে সড়কের ৫শতাংশ কাজও হয়নি।
এদিকে এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন না ধরায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই সিংড়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ তাদের উত্পাদিত ধান, চালসহ চলনবিলে উত্পাদিত পণ্য নিয়ে আসে চাঁচকৈড় হাটে। তাছাড়া সিএনজি চালিত অটোটেম্পু, নছিমন, করিমনসহ ভারী যানবাহনও চলাচল করে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সওজ মো. জিকরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সড়কটির করুণ দশার কথা স্বীকার করে জানান, সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তদারকি করা হবে।
