আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ৪০টি দলকে চিঠি দিচ্ছে ইসি

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৬, ২০:১২
 
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমাদানের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ সপ্তাহেই এ চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি কমিশন সভায় বিষয়টি অনুমোদন দেয়ায় সোমবার চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা। তবে বরাবরের মতো উচ্চ আদালতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটিকে চিঠি দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া বাকি ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি দেয়া হচ্ছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
 
এ বিষয়ে সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতি বছরই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই চিঠি দিচ্ছে ইসি। তবে হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে ওই দলটি বাদে বাকি ৪০টি দলকে চিঠি দেয়া হচ্ছে।
 
ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার তাগিদ দিয়ে ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দু-একদিনের মধ্যেই এ চিঠি সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে পাঠানো হবে। চিঠিতে দলগুলোর হিসাব জমা দিতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হচ্ছে। এ সময়ের পর কোনভাবেই হিসাব নেয়া হবে না। বিষয়টি আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।
 
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাত অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট তথ্য তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে।
 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্বের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল পরপর তিন বছর কমিশনে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয় তবে সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।