বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ে ডিপ্লোমাধারীদেরকে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে বাধা নেই মর্মে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার হাইকোর্টের রায়ের ওপর কোন হস্তক্ষেপ করেননি।
গত ২৪ মে হাইকোর্ট এক রায়ে বলেছিল, এসব ডিপ্লোমাধীরীদেরকে চাকরিতে আবেদন বা নিয়োগদানের ক্ষেত্রে কোন প্রকারের বারিত বা বৈষম্য করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা অনুষদ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে যারাই আবেদন করবে তাদের মধ্য থেকে যারা মেধাবী ও যোগ্য তাদেরকে নিয়োগ দিতে হবে। এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা অনুষদ কর্তৃক অনুমোদিত ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও রিটকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ (ল্যাব, ফার্মাসিস্ট, নার্সিং, রেডিওলজি, ফিজিওথেরাপি ও ডেন্টাল) ২ হাজার ৭৭টি পদের বিপরীতে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা অনুষদ কর্তৃক অনুমোদিত ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স উত্তীর্ণরা এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যারা সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হয়েছেন তাদেরকে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়নি। পরে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক চারটি রিট আবেদন দায়ের করেন রাজীব কুমার মণ্ডল ও নাজমুল হকসহ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ (ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি) কয়েকজন শিক্ষার্থী। আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে।
