ল’ইয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের শামিল: হাইকোর্ট

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৬, ১২:৩২
 
অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের ল’ইয়ার সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে কারামুক্তি না দেয়াটা বেআইনি। একই সঙ্গে ইস্যুকৃত এধরনের সার্টিফিকেট অবৈধ ও আইনগত কৃর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এ ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যু করে বিচার ব্যবস্থায় এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের শামিল।
 
বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে বুধবার এই আদেশ দেয়।
 
আদালত ল’ইয়ার সার্টিফিকেট ইস্যুকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুনকে সতর্ক করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যু করা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, কাশিমপুর কারাগার-১ এর জেল  সুপার সুব্রত কুমার বালা ও অ্যাডভোকেট অন  রেকর্ড সুফিয়া খাতুন নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা করায় তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বরেছে, যেহেতু তারা ক্ষমা প্রার্থণা করেছে এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলো না।
 
মানি লন্ডারিং আইনে গত ২ জানুয়ারি রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় গত ৭ মে ৫ আসামিকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। ১৭ মে জামিননামা কারাগারে যাওয়ার পর দুই আসামিকে মুক্তি দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। কিন্তু অপর তিন আসামি গিয়াস উদ্দিন, আমিনুর রহমান ও ওসমান গণিকে মুক্তি দেয়নি তারা। জামিননামা যাওয়ার পরেও কেন তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি এই বিষয়ে ওই তিন আসামি হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট দুই জেল সুপারসহ তিনজনকে তলব করে। তলব আদেশে তিনজন হাইকোর্টে হাজির হন।
 
একই সঙ্গে কোন কর্তৃত্ব বলে জামিন নামা দাখিলের পরও তিন আসামির কারামুক্তি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। গত সোমবার গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার-১ এর জেল  সুপার সুব্রত কুমার বালা ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন আদালতে পৃথক পৃথক জবাব দাখিল করেন। দাখিলকৃত জবাবে জেল সুপার বলেছেন, অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের দেয়া ল ইয়ার সার্টিফিকেটের কারনে আমরা আসামিদের মুক্তি দেয়নি। কারন ওই সার্টিফিকেটে বলা হয়েছিলো হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। জবাবে বলা হয়, আসামিদের মুক্তি না দেয়াটা ছিলো অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিষয়টি আমাদের অজ্ঞাতসারেই হয়েছে। এই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
 
অপরদিকে সুফিয়া খাতুন জবাবে বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ২৪ মে আপিল দায়ের করা হয়। ৭ জুন আপিল বিভাগ ওই জামিন আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে।
 
আজ সকালে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন পর্যালোচনা করে উপরিউক্ত আদেশ দেয়।
 
আদালত আদেশে বলে, হাইকোর্টের জামিননামা দাখিলের পরও ল’ইয়ার সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তিন আসামিকে আটক রাখা হযেছে। আমরা মনে করি ঐ ল’ইয়ার সার্টিফিকেটের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যুর ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড প্রয়োজনীয় কোনো আইনগত কাগজপত্র দাখিল করতে পারেনি।
আদালত বলেন, জেল কর্তৃপক্ষ বলছে ল’ইয়ার সার্টিফিকেপের ভিত্তিতে কোনো আসামির জামিনে মুক্তি বাধাগ্রস্ত করবে না। অতএব তাদের অব্যহতি দেয়া হলো।