আবাহনীল রেকর্ড রান সংগ্রহের দিন শতক পেলেন লিটন দাস ও ভারত থেকে আবাহনীতে যোগ দেয়া দিনেশ কার্তিক। আর এরপর সাকিবের ঝড়ে পূর্ণতা পেল সেই রেকর্ড। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের বিপক্ষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৭১ রান সংগ্রহ করেছে আবাহনী লিমিটেড।
বাংলাদেশের কোনো দলের সর্বোচ্চ রান তো বটেই, বাংলাদেশের মাটিতেই এটি লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ফতুল্লায় ৭ উইকেটে ৩৭০ রান তুলেছিলে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের দলগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের। ওল্ড ডিওএইচএসের বিপক্ষে গত ঢাকা লিগেই তুলেছিল ৬ উইকেটে ৩৫৭।
লিটন গত ম্যাচেই ইঙ্গিত রেখেছিলেন নিজেকে ফিরে পাওয়ার। অবশেষে খুঁজে পেলেন হারানো ছন্দ, ফিরলেন বড় রানে। শতক করেই থামেননি আবাহনীর ওপেনার। খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। দুর্দান্ত সব শটের পসরায় সাজিয়েছেন ১২৫ বলে ১৩৯ রানের ইনিংস।
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে লিটনের এটি দ্বিতীয় শতক। আগেরটি ছিল ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর আবাহনীর হয়েই কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি বিপক্ষে। ফতুল্লায় সেদিন করেছিলেন ৭৭ বলে ১০৮।
গত মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৬৮৬ রান করে লিটন হয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার। পরে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলেও। টেস্টে পারফরম্যান্স খুব খারাপ না হলেও একদমই সুবিধে করতে পারেননি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে। খেসারত দিতে হয়েছে জায়গা হারিয়ে।
এবারের লিগকে ধরা হচ্ছিল তার জায়গা ফিরে পাওয়ার দাবি জানানোর মঞ্চ। কিন্তু একদমই আলো ছড়াতে পারছিলেন না। এই ম্যাচের আগের ১২ ম্যাচের ১১ ইনিংসে রান ছিল সব মিলিয়ে ১৯৬। ওপেনিং থেকে তিন নম্বর, চার নম্বর, এমনকি খেলানো হয়েছে ৭ নম্বরেও। পাচ্ছিলেন না রানের দেখা। সর্বোচ্চ ছিল আগের ম্যাচেই করা ৪৮।
তবে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ওই ইনিংসেই কিছুটা দেখা মিলেছিল হারানো লিটনের। শুধু কিছু রান পেয়েছিলেন বলেই নয়, তার ব্যাটিংয়ে ছিল সেই নান্দনিকতা ও আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া। সেদিন আউট হয়ে গিয়েছিলেন অর্ধশতকের দোড়গোরায়। এদিন পূর্ণতা দিলেন নিজের ফিরে পাওয়াকে। নিজের প্রিয় পজিশন ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। খেলেছেন চোখ ও মনকে প্রশান্তি দেওয়া সব শট। ৬০ বলে স্পর্শ করেছিলেন অর্ধশতক। পরের পঞ্চাশে লেগেছে মাত্র ৪২ বল। অভিজ্ঞ ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সকে সুইপ করে চার মেরে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১০২ বলে।
শতকের পর ব্যাটের ধার বেড়ে যায় আরও। কচুকাটা করেছেন মোহামেডানের সব বোলারকে। সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রকে। তার ২৬ বলে নিয়েছেন ৩৬। ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটিও মেরেছেন এনামুলকেই।
দিনেশ কার্তিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে লিটন গড়েছেন ১৫০ বলে ১৬২ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত বোল্ড হয়েছেন আরিফুল হকের বলে। ১৮ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৯।
আবাহনী তখন শক্ত অবস্থানে। আর লিটন ফিরে পেয়েছেন স্বস্তি। প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যানের রান পাওয়া সুসংবাদ দেশের ক্রিকেটের জন্যও।
লিটন আউট হওয়ার সময় কার্তিকের রান ছিল ৫৩। সেখান থেকে প্রায় চোখের পলকেই পৌঁছে যান শতকে। ৬৬ বলে স্পর্শ করেছিলেন অর্ধশতক, পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে মাত্র ২৩ বল! শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৭ বলে ১০৯ রান করে।
লিটন-কার্তিক ফিরলেও শেষ হয়নি মোহামেডান বোলারদের ভোগান্তি। উইকেটে গিয়েই তাণ্ডব চালিয়েছেন সাকিব। ২২ বলে করেছেন অর্ধশতক। নাঈম ইসলামের বলে আউট হয়েছেন ৫ ছক্কায় ২৪ বলে ৫৭ রান করে। শেষ দিকে ৮ বলে ১৯ করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন, ৮ বলে ১২ আবুল হাসান। আবাহনী উঠে গেছে এভারেস্টে।
অভিজ্ঞ এনামুল জুনিয়র ১০ ওভারে গুণেছেন ৮৪ রান। থিসারা পেরেরা ৯ ওভারে ৭৫, আরিফুল ৫ ওভারে ৫৫! বিডি নিউজ।
