মণিরামপুরে বিদ্যালয় ভবন ঘিরে দেয়ায় পাঠদান বন্ধ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৬, ১৮:৩৯
মণিরামপুরে একটি বিদ্যালয় ভবন কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে চারদিন ধরে ঘিরে দেয়া হয়েছে। এতে ওই বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
 
সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার ঢাকুরিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল ভবন ও জমি দখল করে কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে চারদিন ধরে ঘিরে দেয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে ১৫ শতক জমি কিনে তার ওপর ২০১৩ সালে ভবন নির্মাণ করে নার্সারি হতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বিদ্যালয়টি।
 
সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় ব্রহ্মপুর গ্রামের বলয় মণ্ডল ও বিমল মণ্ডল আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নিন্ম আদালতে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুকূলে রায় হলে তারা পুনরায় উচ্চ আদালতে আপিল করেন। সেখানেও একই রায় বহাল থাকে। পরবর্তীতে তারা হাইকোর্ট একটি আপিল করে যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
IMG0
এদিকে ওই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গত শনিবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুর্গাপদ সিংহ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম সাজ্জাদসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্কুল প্রাঙ্গণে বৈঠক চলছিল। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জনৈক আহাদ আলীর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত স্কুলটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং গোটা স্কুল ক্যাম্পাস কাঁটা ও বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেয়।
 
স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যান দূর্গাপদ সিংহ জানান, ওই গ্রামের মৃত রামপদ মণ্ডলের ওয়ারেশ রাধু দাসী ওরফে বুচিসহ তার চার কন্যা ওই জমির প্রকৃত মালিক বলে আমরা জেনে আসছি। নিন্ম আলাদতও সেই রায় দেন। পরে বলয় মণ্ডল ও বিমল মণ্ডল নামে দুই ব্যাক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বলে শুনেছি। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
 
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হাদীউজ্জামান জানান,‘অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছি। হঠাৎ স্কুলটি দখল করে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।’
 
মণিরামপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ জানান ‘স্কুলের অধ্যক্ষ হাদীউজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।