হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর আদালতের নির্দেশে কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী কাজী মাহমুদুল হক সজলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মাজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী সজলের লাশ উত্তোলন করে পুলিশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার সরকার, হাসপাতালের চিকিৎসক উবাইদুর রহমান, চিকিৎসক আশরাফুল রহমান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহতের লাশ পুনরায় দাফন করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ময়নাতদন্তকারী দলের চিকিৎসক কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, ভিসেরা রিপোর্ট ঢাকায় প্রেরণ করা হবে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার চৌড়হাস বিসিক এলাকার মৃত কাজী আনোয়ারুল হকের ছেলে ব্যবসায়ী কাজী মাহামুদুল হক সজল চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার লোকনাথপুর গ্রামের পিন্টু শাহের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য জমি লিজ নেন। এরপর সেখানে লাইভ পোল্টি ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি নামে একটি খামার গড়ে তোলেন। গত ১৮ মার্চ রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজমুলসহ ৮-৯ জন ব্যবসায়ী কাজী মাহামুদুল হক সজল ও তার ছোট ভাই কাজী ইমাজ উদ্দিনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
ওই চাঁদা না পেয়ে আসামিরা মাহামুদুল হক সজলকে ফার্মের মধ্যেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ফার্মের কর্মচারীরা বিষয়টি টের পেলে আসামিরা তাদেরকে হুমকি দিয়ে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকে এবং পরিবারের লোকজনকে না জানিয়েই লাশ কাফন পরিয়ে ফেলে।
নিহতের ছোট ভাই কাজী ইমাজ উদ্দিন খবর পেয়ে বগুড়া থেকে রাতে ঘটনাস্থলে এসে দেখেন লাশের মাথায়, গলায়, নাকে, বাম কানের নিচের অংশে কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই কাজী ইমাজ উদ্দিন গত ৮ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে অভিযোগ দাখিল করলে বিচারক ড. এবিএম মাহমুদুল হক অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেনকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গত ১১ এপ্রিল দামুড়হুদা থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই কাজী ইমাজ উদ্দিন। এরই প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়।
