গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে ১৯ জুন দেশজুড়ে ১৪ দলের মানববন্ধন

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৬, ১৪:৪০
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৯ জুন দেশজুড়ে অনুষ্ঠেয় ১৪ দলের মানববন্ধনে শিল্পী, সাহিত্যিক, আইনজীবী, সাংবাদিক, নারী-পুরুষসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠতে হবে। একাত্তরে যেভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।
 
বিএনপি-জামায়াত জোটের গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ১৪ দল ঘোষিত মানবন্ধন কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। আগামী ১৯ জুন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ীসহ দেশব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৯ সালে আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচন হবে। তাই এখন দেশের বিরুদ্ধে, দেশের উন্নয়নের ধারাকে রোধ করতে চক্রান্ত হবে, ষড়যন্ত্র হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে সতর্কভাবে চলতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ১৪ দল একটি অসাম্প্রদায়িক জোট। এই জোটের ঐক্য অটুট আছে, ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। যতদিন পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক হিসাবে গড়ে তুলতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই জোট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। প্রয়োজনে ১৪ দলীয় জোটকে আরো সম্প্রসারিত করা হবে। তিনি বলেন, ১৪ দলের মূল নেত্রী শেখ হাসিনা হলেন ঐক্যের প্রতীক। তার অনুপ্রেরণায় ১৪ দল গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের ঐক্য অটুট রেখে কাজ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ১৪ দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আদর্শিক জোট। শুধু ক্ষমতা ভাগাভাগি, নির্বাচনের জন্য নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ১৪ দল গঠিত হয়েছে। তাই ঐক্য ধরে রাখার কোনো বিকল্প নেই। নইলে অশুভ শক্তি অনৈক্যের ফাটল দিয়ে ঢুকে আমাদের ছুরিকাহত করবে। 
 
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের পালস ক্লাবে হামলায় খালেদার জিয়ার শোক ও দুঃখ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গি হামলায় মানুষ নিহত হলে তিনি শোক জানান, কিন্তু নিজ দেশে নিরীহ মানুষ হত্যা হলে নিরব থাকেন। এটা কোন্ ধরনের রাজনীতি। 
 
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সম্প্রতি ছাত্রলীগের কর্মশালায় সৈয়দ আশরাফের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, ‘ছাত্রলীগের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ সম্পর্কে জ্ঞানদান করার জন্য নানা কর্মশালা করা হয়। হয়তো সেই প্রেক্ষাপটে অতীতের একটি ইতিহাস সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফ সাহেব একটা কথা বলেছেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমাদের ১৪ দলের মধ্যে কোনো অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। 
 
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জাসদের বিষয়ে সৈয়দ আশরাফের মন্তব্যের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বিভেদ চাই না, ভুল বোঝাবুঝির অবসান চাই। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। 
 
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।