আমলা ও তাহির নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় জয়

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৬, ১৭:০৫
ওপেনার হাশিম আমলার সেঞ্চুরি ও বোলার ইমরান তাহিরের ৭ উইকেট শিকারে ত্রিদেশীয় সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা।বুধবার ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৩৯ রানের বিশাল জয়ে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানও দখলে নিলো প্রোটিয়ারা।
 
দ্বিতীয় রাউন্ড ও ৪ খেলা শেষে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা। সমানসংখ্যক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৯ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮ পয়েন্ট।
 
সেন্ট কিটসে টস হেরে প্রথমে ব্যাট হাতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলকে উড়ন্ত এক সূচনা এনে দেন আমলা ও তার সঙ্গী কুইন্টন ডি কক। ১৯৯ বলে ১৮২ ওপেনিং জুটি গড়েন তারা। এরমধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৩তম সেঞ্চুরি তুলে আমলা একাই করেন ১১০ রান। তার ৯৯ বলের ইনিংসে ১৩টি বাউন্ডারি ছিলো। 
 
দলীয় ১৮২ রানে আমলা বিদায় নিলে উইকেটে আসেন পিঞ্চ হিটার ক্রিস মরিস। তার সামনেই বিদায় নেন আমলার সঙ্গী ডি কক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া ডি কক ৬টি চারের সহায়তায় ১০৩ বলে ৭১ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। 
 
এরপর দলের স্কোরে রান জমা করেছেন মরিস ও ফাফ ডু-প্লেসিস। মরিস ২টি করে চার ও ছক্কায় মাত্র ২৬ বলে ৪০ রানে বিদায় নিলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৩শ’ পার করিয়েছেন ডু-প্লেসিস। 
এরপর দলকে সাড়ে ৩শ’র রানের কাছাকাছি পৌঁছেও দেন ডু-প্লেসিসই। তার ইনিংসের উপর ভর করে ৪ উইকেটে ৩৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে চলতি বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ ওয়ানডের ৪ ম্যাচেই ৩শ’ রানের বেশি স্কোর গড়লো প্রোটিয়ারা। 
 
৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫০ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ডু-প্লেসিস। এছাড়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স ১৯ বলে ২৭ ও জেপি ডুমিনি ৫ বলে ১০ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ২ উইকেট নেন।
 
জবাবে শুরু থেকে ম্যাচ হাতের নাগালেই রেখেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’ওপেনারের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্তই। ৯ ওভারে দলের স্কোর ৬৯ রানে নিয়ে যান আন্দ্রে ফ্লেচার ও জনসন চালর্স। ফ্লেচারকে ফিরিয়ে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান স্পিনার তাহির। এখানেই থেমে যাননি তাহির। পরবর্তীতে আরও ছয় উইকেট নিয়েছেন তিনি। 
তাহিরের স্পিন ঘূর্ণিতে পড়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন ব্যাটসম্যানই। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন চালর্স, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন স্যামুয়েলস। ফলে ১২ ওভার হাতে রেখে ২০৪ রানেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ৯ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও জিতে নেন তাহির।
 
দুর্দান্ত বোলিংয়ে রেকর্ড বইয়ে অনেক জায়গায়তেই নিজের নাম লিখিয়েছেন তাহির। ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলিং ফিগারও হয়েছে এটি। বিশ্ব ক্রিকেটে স্পিনারদের মধ্যে সাত উইকেট নেয়ার ক্ষেত্রে এটি তৃতীয় ঘটনা।
 
আগামী ১৯ জুন ব্রিজটাউনে তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে আবারো মুখোমুখী হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।