প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের বেশিরভাগ বিনিয়োগ যাচ্ছে মূলত গৃহ নির্মাণ খাতে। প্রবাসীদের প্রেরিত মাত্র ২৫ ভাগ অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে। সেই বিনিয়োগের প্রায় ৭৫ ভাগ চলে যাচ্ছে কাঁচা, পাকা বাড়িঘর নির্মাণে। প্রবাস আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (১০.৮৭%) চলে যাচ্ছে বিদেশ গমণের জন্য নেয়া ঋণ পরিশোধে। প্রায় ৯ ভাগ অর্থ ব্যবহূত হচ্ছে জমি ক্রয়ে। প্রবাস আয় গ্রহণকারী ৪০ দশমিক ৭১ ভাগ খানা বা পরিবার সঞ্চয় করছে। অধিকাংশেরই (৫৯.২৯%) কোন সঞ্চয় নেই। প্রায় ৬০ ভাগ খানার বিনিয়োগের আকার গড়ে ২০ হাজার টাকার নিচে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রবাস আয়ের বিনিয়োগ সম্পর্কিত জরিপ-২০১৬ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রতিবেদনটির আনুষ্ঠানিক ভাগে মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পণা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হকসহ বিবিএস এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মূলত প্রবাস আয়ের বিনিয়োগ ও ব্যবহার সম্পর্কিত ১০ হাজার ৪শ খানার তথ্য সংগ্রহ করে এ জরিপ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকের মাধ্যমে বেশির ভাগ রেমিটেন্স আসলেও (৫০.৭২%), জনপ্রিয় হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং/বিকাশ (১৪.৩১%), ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন/মানিগ্রাম (১২.৬৬%)। এর পরেও প্রায় সাড়ে ৫ ভাগ প্রবাসীদের অর্থ আসছে হুন্ডির মাধ্যমে।
ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রবাস আয় গ্রহণকারী খানা ২০১৫ সালে গৃহীত প্রবাস আয় হতে বিনিয়োগ করেছে। সকল বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগ সর্বোচ্চ (৬৩.০৯%) খানা এ বিনিয়োগ করেছে যার পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ (৫১.৭৩%) এবং সর্বনিম্ন বিনিয়োগ (৩৮.২০%) রাজশাহী বিভাগে।
২০১৫ সালে খানাভিত্তিক প্রবাস আয়ের গড় পরিমাণ ছিলো ৩ লাখ ২ হাজার ১৮৩ টাকা। প্রবাসীগণের প্রেরিত অর্থের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১১ শতাংশ তাদের পিতা-মাতা এবং ৪১ দশমিক ৭৮ শতাংশ স্বামী বা স্ত্রী গ্রহণ করেছেন। প্রায় অর্ধেক প্রবাস আয় গ্রহণকারী খানা ৪৭ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবাস আয় হতে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। ২০১৫ সালে প্রাপ্ত প্রবাস আয় হতে খানাপ্রতি গড় বিনিয়োগের পরিমান ৭৬ হাজার ৫৪৬ টাকা। মোট প্রবাস আয়ের ২৫ দশমিক ৩৩ ভাগ আয় গ্রহণকারী খানা কর্তৃক বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। মোট বিনিয়োগের সিংহভাগ (৭৪.৭৮%) নির্মান খাতে বিনিয়োগ হয়েছে। প্রায় ৯ শতাংশ ব্যয় হয় জমি কিনতে। জমি কেনার হার রংপুর অঞ্চলে বেশি। সঞ্চয় হচ্ছে ৪০ দশমিক ৭১ ভাগ অর্থ। সঞ্চয়ে এগিয়ে খুলনা বিভাগ, সিলেট ও রাজশাহী। সবচেয়ে কম সঞ্চয় করে রংপুরে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মীদের বেশিরভাগের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ৬২ ভাগই শ্রমিক। ৩৭ ভাগের শিক্ষার মান প্রাথমিক পর্যায়ে। উচ্চশিক্ষিত রয়েছে মাত্র ৮ ভাগ প্রবাসী রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স বিনিয়োগে নিয়ে আসতে হবে। যে অঞ্চলে যে ধরনের বিনিয়োগ সুবিধাজনক সে অঞ্চলে সেধরনের প্রকল্প নেয়া হবে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনেক রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়েছে। তারা সেদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তী নষ্ট করেছে, ফলে সৌদি আরবে আমাদের শ্রমিক প্রেরণ বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরকালীন সময়ে দু দেশের সম্পর্ক উন্নতি হয়েছে।
