দেশজুড়ে সাত দিনের সাঁড়াশি অভিযানে সন্দেহভাজন মোট ১৯৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান জানিয়েছেন, এই ১৯৪ জনের মধ্যে একজনকে ধরেছে র্যাব।
বাকিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫১ জন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), ২১ জন হিজবুত তাহরীর, সাতজন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), ছয়জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, তিনজন আনসাল আল ইসলাম, একজন হরকাতুল জিহাদ ও একজন ‘আফগান ফেরত জঙ্গি’ বলে পুলিশের ভাষ্য।
সন্দেহভাজন এই জঙ্গিদের মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযানের শেষ দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে।
এদের মধ্যে নয়জন জেএমবি, সাত জন হিজবুত তাহরীর এবং একজন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে কামরুল আহছান জানান। তিনি বলেন, অভিযানের সপ্তম দিন একটি পাইপ গান, একটি শাটার গান, এক রাউন্ড গুলি, দুটি ককটেল, একটি রাম দা, একটি চাপাতি ও কিছু উগ্র মতাদর্শের বই জব্দ করেছে বিভিন্ন থানার পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান আজ শেষ হয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
গত এক বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যার পাশাপাশি বিদেশি, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু আক্রান্ত হওয়ার পর সম্প্রতি চট্টগ্রামে একই কায়দায় খুন হন এক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু।
একের পর এক জঙ্গি কায়দায় হত্যা-হামলার প্রেক্ষাপটে ১০ জুন ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় পুলিশের সপ্তাহব্যাপী এই ‘সাঁড়াশি অভিযান’।
