জঙ্গিবিরোধী অভিযান শেষ মেলেনি আশানুরূপ ফল

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৬, ২৩:৩৯
চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পর গত শুক্রবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী পুলিশের জঙ্গি বিরোধী (সাঁড়াশি অভিযান) অভিযান গতকাল শেষ হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল পুলিশ সদর দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়। তবে অভিযানে মোট গ্রেফতার হয়েছে ১৪ হাজার ৫৫২ জন। দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানের মধ্যেই জঙ্গি কায়দায় দুটি হামলারও ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।
 
বিএনপি শুরু থেকেই এই অভিযানকে ‘সরকার বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর কৌশল’ বলে অভিযোগ করে আসছে। পুলিশ এই অভিযানের নামে গণগ্রেফতার করে ঈদের আগে ‘বাণিজ্য’ করছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে পুলিশ এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে।
 
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অভিযানে যে পরিমাণ সফলতা পাওয়ার কথা ছিল তা পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশ ‘বাহবা’ নেয়ার জন্য সাধারণ গ্রেফতারকেও বিশেষ অভিযানের নামে চালানোর চেষ্টা করেছে। আর পুলিশ সদর দফতরের দেয়া পরিসংখ্যানের কারণে  ‘এটি গণ গ্রেফতার’ হিসেবে বেশি আলোচিত হয়েছে। এবারের অভিযানে দু’-একজন ছাড়া কোনো চিহ্নিত জঙ্গিকে গ্রেফতার করা যায়নি। এমনকি গত ১৮ মাসে উগ্রপন্থীদের ৪৭টি হামলায় যে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন, তাতে জড়িত কাউকে গ্রেফতারের কথাও পুলিশ জানাতে পারেনি। তারা আরো বলেন, সারাদেশে বর্তমানে থানার সংখ্যা ৬৩০টি। প্রতিদিন প্রতি থানায় পাঁচজন গ্রেফতার হলোও মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৫০ জন। সে হিসেবে সাত দিনে গ্রেফতারের পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫০ জন। কিন্তু এই সাত দিনে গ্রেফতার ১৫ হাজারের কাছাকাছি। তবে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সাত দিনে ১৯৪ জনের গ্রেফতার হওয়াটাকে কিছুটা সফলতা বলতেই হবে।
 
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান অবশ্য সাঁড়াশি অভিযানকে সফল বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সপ্তাহব্যাপী জঙ্গি বিরোধী অভিযানে পুলিশের অনেক সফলতা রয়েছে। জঙ্গি গ্রেফতারের পাশাপাশি উগ্রপন্থীদের মধ্যে একটা ভীতিও তৈরি হয়েছে। অভিযানে ফলে জঙ্গিদের ব্যাপারে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া গ্রেফতারকৃত ১৯৪ জন জঙ্গিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে           আরো তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আপাতত এ অভিযানের মেয়াদ আর বাড়ছে না। তবে পুলিশ তো বসে থাকবে না। অভিযান তো পুলিশের কাজেরই একটি অংশ।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, টার্গেট কিলিং এবং জঙ্গি দমনের লক্ষ্যেই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে কোনো ধরনের গ্রেফতার বাণিজ্য হয়নি। আবারো এ ধরনের অভিযান চালানো হবে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অভিযান চালানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বসে নেই। তারা নিয়মিতই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাঁড়াশি অভিযানে ৭৫ ভাগ সফলতা এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
পুলিশের দাবি,  সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় ১৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার (বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত) করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ. কে. এম. কামরুল আহছান জানিয়েছেন, জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ১৯৪ জনের মধ্যে রয়েছে ১৫১ জন জেএমবি, সাতজন জেএমজেবি, ২১ জন হিজবুত তাহরির, ছয়জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, তিনজন আনসার আল ইসলাম, চারজন আল্লাহর দল, একজন হরকাতুল জিহাদ এবং ১ জন আফগান ফেরত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।