সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং আওতাধীন অধিদফতর-কর্তৃপক্ষ-সংস্থা-প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের দায়িত্ব এককভাবে কোন মন্ত্রণালয়-বিভাগ বা এর অধীনস্থ অধিদফতর-কর্তৃপক্ষ-সংস্থা -প্রতিষ্ঠানের উপর ন্যস্ত নয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগর, বাইপাইল ও জিরানী ইন্টারসেকশন ১০ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মাহসড়কের সাভার-নবীনগর মহাসড়কাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে জাল-ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী গাড়িচালক, যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ-ফিটনেসবিহীন গাড়ি, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ৮ লেনবিশিষ্ট টঙ্গী সেতুসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সড়ক নির্মাণ করা হবে। সড়কটি নির্মিত হলে ঘণ্টায় উভয় দিকে ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায় ২০১৮ সালে সড়কটি নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) নির্মাণ করা হচ্ছে। এ মেট্রোরেলে ঘণ্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম দ্রুতগতি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা। নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালের আগেই ২০১৯ সালে মেট্রোরেল চালু করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার নিরুত্সাহিত করে গণপরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈদেশিক সহায়তায় বিআরটিসি’র বাস বহরে আরো ৩০০টি দ্বিতল বাস, ২০০টি একতলা এসি ও ১০০টি একতলা নন-এসি বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।-বাসস।
