স্বরূপকাঠির নৌকার হাট

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৬, ০১:১৭
ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল- প্রবাদটি এখনো বর্ষা মৌসুমে নৌকা ও মাছধরার চাঁইয়ের মাঝে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এ অঞ্চলের মানুষ চলাচল ও পণ্য পরিবহনের জন্য বাহন হিসেবে খুঁজে নেন নৌকা। শুধু যাতায়াত আর পণ্য পরিবহন নয়, দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের মত্স্য শিকারের কাজে অন্যতম ভূমিকা নৌকার। নৌকায় জাল, চাঁই নিয়ে অথবা বড়শি নিয়ে মত্স্য শিকারে ছোটেন জেলেরা। কাঁচা সবজি বিক্রির জন্য নিকটবর্তী হাট-বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রধান বাহন হচ্ছে নৌকা। স্বরূপকাঠীসহ কয়েকটি এলাকায় এসব নৌকায় বসে বেচা-কেনা হয় তরিতরকারিসহ নানা পণ্য। প্রতি বছর বর্ষা এলেই কদর বেড়ে যায় নৌকার। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
 
এ অঞ্চলে নৌকার জন্য বিখ্যাত স্বরূপকাঠী। জ্যৈষ্ঠের   শেষ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত আটঘর, কুড়িয়ানা ও ইন্দেরহাটে নতুন তৈরি ছোট নৌকা বিক্রির হাট বসে। ঐ উপজেলায় বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি, পেয়ারা এবং লেবুর ব্যাপক ফলন হয়। এসব কৃষিপণ্য বাজারে আনার জন্য খাল-বিল পার হতে নৌকার বিকল্প নেই। তাই নৌকার বিকিকিনি জমজমাট হয়ে ওঠে। কুরিয়ানা বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৫ শতাধিক নৌকা বিক্রি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়া, উজিরপুর ও ঝালকাঠী থেকেও নৌকা ক্রয় করতে স্বরূপকাঠীর বিভিন্ন বাজারে আসেন ক্রেতারা।
 

নৌকার কদর বেড়ে যাওয়ায় স্বরূপকাঠীতে নৌকা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার ইন্দেরহাট, ইলুহার, গাগর, আতাকোঠালী ও বৈঠাকাটাগ্রামের অসংখ্য পরিবার নৌকা তৈরির পেশায় নিয়োজিত। তারা স্বরূপকাঠী থেকে কাঠ ক্রয় করে নৌকা তৈরি করছেন। চাম্বল কাঠ দিয়ে ‘ডিংগি’ ও ছোট আকারের ‘পিনিশ’ নৌকা তৈরি করে বিক্রি করছেন। রেইন্ট্রি কাঠ দিয়েও কমদামি নৌকা তৈরি করা হয়। আটঘর কুরিয়ানা নদীতে নতুন নৌকার হাট বসে।