‘পিতৃস্নেহের কাছে হয়েছে মরণের পরাজয়’

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৬, ১০:৫৫
 
তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া। তিনি বাবা। বাবার তুলনা তিনি নিজেই। বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ আর নি:সীম নিরাপত্তার চাদর। ‘মরিয়া বাবর অমর হয়েছে,নাহি তার কোনো ক্ষয়/ পিতৃস্নেহের কাছে হয়েছে মরণের পরাজয়’- সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসা এতটাই স্বার্থহীন যে, সন্তানের জন্য নিজের প্রাণ দিতেও তারা কুণ্ঠবোধ করেন না।
 
আজ রবিবার, ১৯ জুন। বিশ্ব বাবা দিবস। বছরের এই দিনকে প্রিয় সন্তানরা আলাদা করে বেছে নিয়েছেন। জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সারা বিশ্বের সন্তানরা পালন করবেন দিবসটি।
 
মা’ এর মতো ‘বাবা’ও ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ এর গভীরতা অসীম। ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপ:..’-সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মন্ত্র জপে বাবাকে স্বর্গজ্ঞান করে শ্রদ্ধা করেন। পিতা সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো স্নেহছায়া হয়ে থাকেন। সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে পারেন। আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার  জায়গা হলো বাবা। ‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়...।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের এক অসীম আবেগ-নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে দেয়। 
 
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এই দিবস পালন করা হয়। মিসেস গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটনের উদ্যোগেই মা দিবসের আদলে দিবসটি পালিত হয়। ১৯০৭ সালের একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২১০ জন বাবার স্মৃতির উদ্যোগে পালিত হয় ওই  দিবস। তবে তা নিয়মিত হয়নি। তার দুই বছর পর ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনোরা স্মার্ট ডট নতুন পরিসরে বাবা দিবস পালন করে। সেনোরাকেই বাবা দিবসের উদ্যোক্তা মনে করা হয়। 
 
১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালন হবে দিবসটি।