রৌমারীতে দুই বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ২০ জুন ২০১৬, ০১:১০
রৌমারী উপজেলার কাউনিয়ারচর ও কাউয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায়। প্রতিষ্ঠান দুটির ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে পাঠদানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাউনিয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৬৮ সালে। বর্তমানে স্কুলে প্রায় সাড়ে ৩শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী অনুসারে আটজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছেন মাত্র চারজন। চারকক্ষবিশিষ্ট দুটি ভবনের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত। অন্যটিতে চার কক্ষের একটি শিক্ষকদের অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়। তিনকক্ষে শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চমশ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কোনোক্রমেই সম্ভব হয় না। আর এ কারণে পালা করে দুটি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম হয় গাছতলায়। বেঞ্চের অভাবে শিশুরা দাঁড়িয়ে ও মেঝেতে বসে ক্লাস করে।
 
প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, অনেকদিন আগে পরিত্যক্ত ভবনের পলেস্তারা আর ইট খসে পড়ে ১৫ জন শিশু আহত হয়েছিল। তারপর থেকে সেখানে আর ক্লাস নেয়া হয় না। নতুন ভবনের জন্য এ পর্যন্ত ১৪ বার আবেদন জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কোনো আশ্বাস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গেল বছর শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়। তাছাড়া ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিবছর প্রাথমিক সমাপনীতে বৃত্তিলাভ করে আসছে। উপজেলার কাউয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে একটিমাত্র ভবন তাও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে চার বছর আগে। এরপর আর কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ১৯৮৮ সালে স্থাপিত এ স্কুলের শিক্ষার্থী প্রায় ২শ’ আর শিক্ষক চারজন। প্রধান শিক্ষক অলিউল্লাহ মন্ডল বলেন, চারকক্ষবিশিষ্ট ভবনটিতে ক্লাস নেয়া মানে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া শিশুদের। ফলে বাধ্য হয়েই মাঠে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঝড়বৃষ্টির সময় শিশুদের পাঠিয়ে দেয়া হয় বাড়িতে।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাত হোসেন জানান, আমি অল্পদিন হল এখানে যোগদান করেছি। স্কুল দুটি প্রসঙ্গে আমার কোনো ধারণা নেই। তাছাড়া স্কুলে যাওয়ার সময়ও হয়নি। আমি স্কুল দু’টির খোঁজ নেব, তারপর নতুন ভবন নির্মাণে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে যত দ্রুত সম্ভব হয় তার ব্যবস্থা করব।