আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা: ১১ আসামির খালাসের রায় স্থগিত

আপডেট : ২১ জুন ২০১৬, ১৩:২১
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি আহসান উল্লাাহ মাস্টার হত্যা মামলার ১১ আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। 
 
রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকি আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ স্থগিত আবেদনটি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এই স্থগিত আবেদনের ওপর পরবর্তী শনানি অনুষ্ঠিত হবে।
 
গত ১৫ জুন হাইকোর্ট আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করে। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অন্য কোন মামলায় গ্রেফতার না থাকলে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়। 
 
এই ১১ আসামি হলেন, আমীর, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, মেহের আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, ফয়সাল (পলাতক), লোকমান হোসেন বুলু, রনি ফকির (পলাতক), খোকন (পলাতক) ও দুলাল মিয়া, রকিবউদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু সরকার, আয়ুব আলী ও মনির। শেষের তিন জন আসামি যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। বাকিরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। হাইকোর্টের খালাসের এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ এই আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানি করেন। 
 
তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ৭ মে নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। ঘটনার পরদিন তার ভাই মতিউর রহমান বাদি হয়ে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০০৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে এ হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। 
 
এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করে। আপিলের শুনানিসহ হাইকোর্ট বিনএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। একইসঙ্গে ৭ আসামির মৃৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্ট।