পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ২২ জুন ২০১৬, ০০:৪১
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার হার বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বন নীতি ২০১৬’ নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

 

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের দেশ ছোট, কিন্তু জনসংখ্যা অনেক বেশি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তাও কম নয়। কিন্তু এর বাইরে অনেক ইতিবাচক দিকও আছে। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে আরো একটি নতুন বাংলাদেশ জেগে উঠছে। সমুদ্র থেকে আমরা নতুন নতুন জমিও পাচ্ছি। এসব জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

 

তিনি অরো বলেন, অনেকে বলে থাকেন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশ তলিয়ে যাবে। এ কথাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ বাংলাদেশ তলিয়ে গেলে ওয়াশিংটনের একাংশসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহর তলিয়ে যাবে। এর মানে হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে  কোনো দেশ এককভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

 

বাংলাদেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বনায়নের মাধ্যমে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। ইকো-সিস্টেম ঠিক রাখতেও বনায়ন কাজ করে। এজন্য সরকার বনায়ন রক্ষায় কাজ করছে।

 

 তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে আইন না মানার একটি সংস্কৃতি আছে। কিন্তু শিক্ষার হার বাড়লে এবং মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। তবে আমাদের মতো দেশে দক্ষ প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য বিদেশিদের সহায়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

 

প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বর্তমান সরকার বনায়নকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য যুগোপযোগী বন নীতি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বনায়ন আমাদের নানাভাবে উপকৃত করছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে জনজীবনে ক্ষতি কম হয় সেজন্য সরকার উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প করেছে। তিনি জানান, নতুন বন আইনের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের ২০ শতাংশ বনায়ন করা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমোয়ো ফ্যান, বন কর্মকর্তা উত্তম কুমার সাহা বক্তব্য রাখেন।