এবারের ফেডারেশন কাপের শুরু থেকেই জায়ান্ট কিলার হিসেবে আবির্ভূত হয় ছোট দলগুলো। তাদের দাপটে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় চট্টগ্রাম আবাহনী, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সকার ক্লাব ফেনীর মতো শক্তিশালী দল। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তারা বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের মতো দলের।
কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ জামালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। আর মুক্তিযোদ্ধাকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে টিম বিজেএমসি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও টিম বিজেএমসি। কেস্টার অ্যাকনের জোড়া গোলে বিজেএমসিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আরামবাগ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠল অফিস পাড়ার দলটি।

অবশ্য প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল কিন্তু আরামবাগই। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় টিম বিজেএমসি। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া শট আরামবাগের খেলোয়াড়দের পায়ে লেগে ডি বক্সের মধ্যে থাকা জাকির হোসেন জিকোর কাছে চলে যায়। জিকো প্রথমে বলটি ভালোমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। বল সামনের দিকে এগিয়ে আসে। বলের সঙ্গে জিকোও এগিয়ে এসে পেছন ঘুরে শট নেন। আরামবাগের গোলরক্ষক মিতুল হাসান শুয়ে পড়ে হাত বাড়িয়ে দেন বল ধরতে। কিন্তু বল তার হাতের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে আশ্রয় নেয় (১-০)। ফলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় টিম বিজেএমসি।

বিরতির পর ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। আর পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে দলকে সমতায় (১-১) ফেরান আরামবাগের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড কেস্টার অ্যাকন। ৬৯ মিনিটে মাঝ মাঠের একটু সামনে বল পেয়ে যান কেস্টার অ্যাকন। তিনি বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ঢুকে পড়েন বিজেএমসির ডি বক্সে। গোলরক্ষক আরিফুজ্জামান হিমেলের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি (২-১)।
৭২ মিনিটে একপ্রকার বিতর্কিত পেনাল্টি পায় টিম বিজেএমসি। কিন্তু পেনাল্টি কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন বিজেএমসির ক্যামেরুনিয়ান ডিফেন্ডার বেইবেক। তার নেওয়া শটটি বার কাঁপিয়ে ফিরে আসে। ফলে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ নষ্ট হয় বিজেএমসির।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে আরামবাগের জাফর ইকবাল বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বিজেএমসির ডি বক্সে। ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। আর আরামবাগ এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে। এই ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত হয় তাদের। নিশ্চিত হয় ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের ফাইনালের টিকিট। ২৭ জুন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ঢাকা আবাহনী কিংবা শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের মুখোমুখি হবে তারা।

এর আগে দুবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলেছিল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। সেটা অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় আগে। প্রথম ফাইনাল খেলে ১৯৯৭ সালে। এরপর ২০০১ সালে। অন্যদিকে টিম বিজেএমসিরও রয়েছে ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা। সেটা অবশ্য বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০১১ সালে তারা ফাইনালে খেলেছিল। তবে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা নেই কোনো দলেরই। আরামবাগ ১৯৯৭ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে হার মানে ঢাকা আবাহনীর কাছে। আর ২০০১ সালে হেরেছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কাছে।
অন্যদিকে টিম বিজেএমসি ২০১১ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে হেরেছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের কাছে। তবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ এবার শুরু থেকেই যেভাবে খেলছে তাতে ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের শিরোপা তাদের শোকেসে উঠলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।
আরামবাগের ক্লাবটি প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপের শিরোপা ঘরে তুলতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা!
