'যতবার আওয়ামী লীগ ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে ততবারই স্বমহিমায় উজ্জ্বল'

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৬, ২১:৪০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সংগঠনের প্রাণভোমরা অভিহিত করে বলেছেন, 'এসব ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কারণেই যতবার আওয়ামী লীগকে ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে ততবার আওয়ামী লীগ আরও উজ্জ্বল এবং স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।'
 
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা-কর্মীদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমি এই আহবান জানাব- একজন রাজনৈতিক নেতা যদি সততার সাথে কাজ করতে পারে, তবে সেই সততাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো শক্তি। যে শক্তি দিয়ে যেকোন দুর্যোগ বা দুর্বিপাক মোকাবেলা করা যায়।'
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
 
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। শত ষড়যন্ত্র-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে না পরার কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের শেকড় অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগের যে তৃণমূলের নেতা-কর্মী, এই নেতা-কর্মীরাই সবসময় যেকোন ক্রান্তিকালে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
 
তিনি বলেন, 'উপরের নেতারা কখনো কখনো ভুল করেছেন। কিন্তু, তৃণমূলের নেতারা কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল করেন নাই। যে নির্দেশনা জাতির পিতা দিয়েছেন সেই নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনেই কিন্তু এই সংগঠন এগিয়ে চলেছে। যতবার আঘাত এসেছে যতবার এই দলভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে ততবরাই এই দল আরও উজ্জ্বল হয়ে জনগণের সামনে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়েছে এবং আরও শক্তিশালী হয়েছে।'
 
শেখ হাসিনা বলেন, দলটির প্রতি আঘাত একবার আসেনি, বার বার এসেছে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিই যখন পার্টি ভেঙ্গে চলে যায় তখন সে পার্টি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়। সে সময় বঙ্গবন্ধুর মতো ত্যাগী স্বাধীনচেতা এতো বলিষ্ঠ নেতা এই পার্টিতে ছিলেন বলেই এই দল যেমন টিকে গেছে, তেমনি শক্তিশালীও হয়েছে।
 
আজও আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আঘাত আমাদের ওপর বার বার এসেছে। প্রতিঘাতে সে আঘাত ফেরত দিয়ে আমরা বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমি এই আহ্বান জানাব, একজন রাজনৈতিক নেতা যদি সততার সাথে কাজ করতে পারে, তবে সেই সততাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো শক্তি। যে শক্তি দিয়ে যেকোন দুর্যোগ বা দুর্বিপাক মোকাবেলা করা যায়।'
 
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ ছাড়াও শেখ হাসিনা জাতীয় চার-নেতাসহ দলের পূর্বসূরি নেতা-কর্মীদের-যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা ও ত্যাগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ গণমানুষের এক বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে তাদের স্মরণ করেন।