এক বছরের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পেলেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক অনিল কুম্বলে। বৃহস্পতিবার কুম্বলেকে ভারতের কোচ হিসেবে ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
দায়িত্ব পাবার পর থেকেই শুভেচ্ছায় ভাসছেন কুম্বলে। এর মাঝেই ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন কুম্বলে।
প্রশ্ন: শুরুতেই আপনাকে অভিন্দন।
কুম্বলে : ধন্যবাদ। আমি নিজেও দারুণ উত্তেজিত। আশা করছি দল নিয়ে ভালো কিছু করতে পারবো।
প্রশ্ন : ভারতীয় দলকে নিয়ে আপনার আসল লক্ষ্য কি?
কুম্বলে : ভারতীয় দলকে অনেক বেশি সাফল্য এনে দেয়াই আমার আসল লক্ষ্য। বিদেশের মাটিতে আমাদের ফলাফল খুব বেশি ভালো না। সেখানে অনেক বেশি সাফল্য পেতে চাই আমি।
প্রশ্ন : আপনার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টই তো বিদেশের মাটিতে...
কুম্বলে : প্রথম সফরটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের হবে আমার জন্য ও দলের জন্য। শুরুটা ভালোভাবেই করতে চাই আমি।
প্রশ্ন : ক্রিকেট জীবনে আপনি স্পিনার ছিলেন। এতে ভারতীয় স্পিনার তো বেশি সুবিধা পাবে।
কুম্বলে : শুধু স্পিনার নয়। পুরো ভারতীয় দল নিয়েই আমি কাজ করবো। ব্যাটসম্যানদের, বোলারদের নিয়ে আলাদা আলাদা কাজ করবো। টেস্ট ক্রিকেটে ২০ উইকেট জরুরি। আর এটাইতে আমি বেশি নজর দেব ।
প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনার ৯৫৬ উইকেট রয়েছে। তারপরও কোচের চাকরিতে আবেদন করে তো খারিজও হয়ে যেতে পারতেন। তখন তো নিজের কাছে লজ্জা লাগতো।
কুম্বলে : খারিজ হলে হতো। এভাবে কখনো ভাবিনি। আমি কখনো ফলের কথা ভেবে চ্যালেঞ্জ নেইনি। চ্যালেঞ্জের কথা ভেবেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। কোন কিছু যখন করবেন বলে ঠিক করেছেন, তখন সেটা করতে হবে। তখন আর পিছু হটার কোন ব্যাপার নেই।
প্রশ্ন : এই চাকরিতে আবেদন করার কথা মনে হলো কিভাবে?
কুম্বলে : আইপিএলের সময় এবার আমি ব্রেক নেই। পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল এ বছর আইপিএল থেকে ছুটি নেয়া দরকার। তারপর লন্ডনে যাই আইসিসি সভায়। লন্ডন থেকে ফিরে বিজ্ঞাপনটা দেখে সিদ্বান্ত নিই আবেদন করবো। তা ছাড়া আমার মনে হয়েছিল ক্রিকেটকে আমার কিছু ফেরত দেওয়া দরকার। আমার বন্ধুরা এখন ক্রিকেট প্রশাসনে নানা পদে রয়েছে। রাহুল জুনিয়দেও কোচ। দাদা (সৌরভ গাঙ্গুলি) সিএবি প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি পরামর্শক কমিটিতে রয়েছেন। টেন্ডুলকার এবং লক্ষণও আছে। আমিও এসময় কিছু করতে পারি।
প্রশ্ন : সরকারিভাবে আপনার মেয়াদ এক বছর। কিন্তু বেসরকারিভাবে কমিটি তো চায় আপনি চার বছর থাকুন।
কুম্বলে : চার না, তিন বছর। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
প্রশ্ন : আপনি ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকতে প্রস্তুত?
কুম্বলে : হ্যাঁ। আমি ঐ সময়সীমার জন্য তৈরি।
প্রশ্ন : তবে ভারতীয় কোচের চাকরি মানে তো প্রায় দশ মাস বাইরে থাকা। পরিবারের জন্য সমস্যা হবে না?
কুম্বলে : আবেদন করার আগে পরিবারের সাথে আমার আলোচনা হয়েছে। তারা আমার কাজের সাথে একমত। আর আমার মনে হয়েছিলো, আজ থেকে তিন চার বছর পর আমার বাচ্চারা আরও বড় হবে। তখন ওদের আমাকে বেশি লাগবে। আমাকে যদি কোন চ্যালেঞ্জ নিতেই হয়, তা’হলে মাঝপথেই নিতে হবে।
প্রশ্ন : ইন্টারভিওতে আপনার প্রেজেন্টেশন দেখে তো পরামর্শক কমিটির সদস্যরা মুগ্ধ...
কুম্বলে : হ্যাঁ। আমি আমার মতো করে একটি রুপরেখা তুলে ধরেছি। বুঝাতে চেয়েছি- ভারতীয় ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে যাওয়া যায়।
প্রশ্ন : অধিনায়ক থাকাকালীন আপনি দলের জন্য ভিশন ডকুমেন্ট তৈরি করেছিলেন। এটা তো আপনার কাছে প্রত্যাশিতই ছিলো।
কুম্বলে : বন্ধুদের সামনে ঐ সময় ওগুলো করাতে আমার অভিজ্ঞতা বেড়েছে।
প্রশ্ন : তিন পরিচিত বন্ধুর সামনে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে আপনার কেমন লাগলো?
কুম্বলে : নার্ভের উপর প্রচন্ড চাপ পড়েছিলো। একে তো এমন ইন্টারভিউ কষনও দেইনি। তার উপর আমার প্রিয় তিন বন্ধুর সামনে প্রেজেন্টশন পেশ করার অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। একটা অনুরোধ করবো আপনাকে। তা’হলো- টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলি বা লক্ষ্মণকে জিজ্ঞাসা করবেন, আমার ইন্টারভিউ তাদের কতটা লজ্জা লেগেছিলো।
খেলোয়াড়ি জীবনের পরিসংখ্যান ভরপুর হলেও, কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা খুব বেশি শক্তপোক্ত নয়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মেন্টর হিসেবে কয়েকটি আসরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ৪৫ বছর বয়সী কুম্বলে।
