নারী মাদকাসক্তদের মধ্যে ৪৩% ইয়াবা সেবী

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৬, ২০:৩৯
নারী মাদকাসক্তদের মধ্যে ৪৩% ইয়াবা সেবী বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। রবিবার  মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের সাথে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।
 
সমীক্ষায় আরো উঠে আসে যে পারিবারিক অশান্তির কারণে বেশি মাদক গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে নারীর, যার শতকরা হার ৩৭%। বন্ধুদের প্ররোচনায় ৩৩% মাদক গ্রহণ শুরু করে। নারীদের মধ্যে শতকরা ৩৪% মানসিক রোগের চিকিৎসা নিচ্ছে। ঢাকা আহছানিয়া মিশনে নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা ১০৩ জন নারী রোগীর মধ্যে পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী এ তথ্য প্রদান করা হয়। 
 
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উপ-পরিচালক ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ। অন্যদিকে ঢাকা আহছানিয়া মিশনে চিকিৎসা নিতে আসা ২৬৩ জন পুরুষ রোগীর মধ্যে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে ৪০% জানান তারা কোন না কোন সময় এলকোহল/মদ গ্রহণ করেছে। এছাড়া ফেন্সিডিল ২৫%, গাঁজা ৩৮%, ইয়াবা ৪১%ও হেরোইন গ্রহণকারী ৭% এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা গ্রহণ করে মাত্র ৫%। অর্থাৎ দেশে আশঙ্কাজনকভাবে ইয়াবার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
যেসব রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের ২৫% পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ না কেউ মাদক গ্রহণকারী। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের মাদক গ্রহণ এসব রোগীর মাদক শুরু করতে উৎসাহ জুগিয়েছে আবার পরিবারের এ সকল সদস্যরা রোগীদের সুস্থতার পথে অন্তরায়। এই জরিপে আর একটি বিষয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তা হচ্ছে বন্ধু বান্ধবের প্ররোচনার চাইতে নিজের আগ্রহে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বেশি অর্থাৎ বন্ধু দের প্ররোচনায় ৩৭%, নিজের আগ্রহে ৪২% এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে ২২% মাদক গ্রহণ শুরু করে। 
 
চিকিৎসা গ্রহণ করতে আসা ২৬৩ রোগীর মধ্যে ৭৩% রোগী পরিবারের সদস্যদের চাপে চিকিৎসা গ্রহণ করছে এবং স্বেচ্ছায় বা নিজের আগ্রহে চিকিৎসা নিতে এসেছে মাত্র ১৪%। বিশ্বব্যাপী এই মাদক সমস্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এই সমস্যা প্রকট হারে দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশেও মাদকাসক্তের হার আশংকাজনক-ভাবে পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক অবস্থাভেদে সকল শ্রেণীর মধ্যেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। মাদক সমস্যার শুরুতে আমাদের দেশে শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা দেখা যেত কিন্তু বর্তমানে নারী ও শিশুদের মাঝেও এই সমস্যা দেখা হচ্ছে। 
 
দেশে মাদক সমস্যাকে সামনে রেখে ঢাকা আহছানিয়া মিশন অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৯৯০ সাল থেকে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, যেহেতু মাদক-নির্ভরশীলতা একটি  অসুস্থতা বিধায় মাদকমুক্তরাও পুনরায় আসক্ত হতে পারে, সেহেতু হতাশ না হয়ে পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।  
 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ্যাডিকশন প্রফেশনাল ডা. আক্তারুজ্জামান সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট আমির সাজু ও আব্দুল আওয়াল, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উপ-পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং এ্যাডিকশন প্রফেশনাল জাহিদ ইকবাল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে মাদকাসক্ত সমস্যা নিরসনে কর্মরত সরকারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ।