২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জন্য ২ হাজার ৮৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বাজেট (প্রস্তাবিত) ঘোষণা করা হয়েছে। এ অর্থবছরে নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৪৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪৮০ কোটি টাকা।
রবিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আনিসুল হক।
মেয়র আনিসুল হক জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে নিজস্ব আয়ের অন্যতম খাত হল হোল্ডিং ট্যাক্স। মোট রাজস্ব আয়ের ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ এই খাত থেকে ধরা হয়েছে। এছাড়া মহাখালী ও আমিনবাজারে সিটি কর্পোরেশনের বাজার থেকে সালামী বাবদ ১৬০ কোটি টাকা ও ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ৪৫ কোটি টাকা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর বাবদ ১৩৫ কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ৪৫ কোটি টাকা, সড়ক খনন ফি বাবদ ৪৫ কোটি টাকা, গরুর হাট ইজারা বাবদ ১৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন বাবদ ১৫ কোটি, বিদ্যুৎ বিল বাবদ আয় ১২ কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে উত্তর সিটির।
অন্যদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাজেটের ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হল- বেতন, পারিশ্রমিক ও ভাতা ১৩৫ কোটি টাকা, জ্বালানী, পানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা, মশক নিয়ন্ত্রণে ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে মেয়র আনিসুল হক জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাউল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা, প্রধান প্রকৌশলী বি. জে. সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বি. জে এস এম সালেহ ভূইয়া প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ১ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট ছিল ১ হাজার ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সেই বাজেটে আয়ের প্রধান খাত ছিল নিজস্ব আয়।
ওই বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৪১০ কোটি টাকা। তবে কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সেই লক্ষ্যমাত্রার দুই-তৃতীয়াংশও পূরণ হয়নি। বাজার সেলামি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬০ কোটি টাকা, কিন্তু আয় হয়েছে ৫ কোটি টাকারও কম।
