'ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার'

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৬, ২২:৫৭
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি বলেছেন, 'ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা দ্রুততর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।'
 
তিনি শনিবার রাজধানীর হোটেল অবকাশে ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, 'গবেষণায় দেখা গেছে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় যে দেশ যত দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করতে পেরেছে তাদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি তত কম হয়েছে। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমম্বয় নিবিড়করণ এবং ক্রান্তিকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণের কাজ করছে সরকার।'
 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ্ কামালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী, প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
মন্ত্রী বলেন, 'সিপিপির অধীনে ৩০ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ দিয়ে ফায়ার সার্ভিস বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আইনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আলাদা প্রশিক্ষিত বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর জন্য কাজ করা হচ্ছে। শিগগিরই এ বাহিনী গঠন করা হবে। এ বাহিনী গঠন করতে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে দেশের স্বার্থে দ্রুত সময়ে এর অনুমোদন দিলে কাজটি সহজতর হবে।'
 
আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'সরকার ইতোমধ্যে ৭৯ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে সরবরাহ করেছে। আরো ১০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হচ্ছে।' কর্মশালায় বক্তারা বিল্ডিং ডিজাইনকারী কর্তৃপক্ষ ও সমাপনী সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে বিল্ডিং কোড না মানার যে কোন অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করেন। তারা বলেন, 'ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার সুবিধার জন্য অঞ্চলভিত্তিক উন্মুক্ত স্থান রাখতে হবে।'
 
রাজউকের চিহ্নিত ৩২১টি ভবন ভাঙ্গা নিয়ে রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতায় মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থাকতে হবে। গণমাধ্যমের সহযোগিতা ব্যতীত জনসচেতনতার কাজ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।