গ্যাসের দাম বাড়ালে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ানের ধারা ব্যাপকভাবে ব্যাহত বলে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে সরকার আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চেম্বারটি।
সোমবার ডিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ব্যবহূত প্রতি ঘনফুট গ্যাসের মূল্য প্রায় ১৪০ শতাংশ, গৃহস্থালীতে ব্যবহার্য গ্যাসের জন্য ৮৫ শতাংশ, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি)’র জন্য ৮৩ শতাংশ এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহূত গ্যাসের জন্য ৭২ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাব্য পরিকল্পনা করছে সরকার।
গ্যাস উত্পাদন ও সরবরাহের এ সংকটকালে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত ১৪০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, চামড়া শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিদুত্ উত্পাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য গ্যাস নির্ভর শিল্প-কলকারখানার উত্পাদনকে ব্যহত করবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ নিরুত্সাহিত হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্যাসের মূল্য পুনরায় বাড়ানো হলে তৈরি পোশাক খাত এবং অন্যান্য আমদানি বিকল্প রপ্তানি নির্ভর শিল্প পণ্যের উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার সম্ভাবনা কমে আসবে। বাণিজ্যিক পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়ার কারণে ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি ও পণ্য সরবরাহে (সাপ্লাই চেইন) ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। যার প্রভাব সাধারণ ভোক্তাশ্রেণীর উপর গিয়ে পড়বে। এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধি অনৈতিকভাবে অপব্যবহারের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে সহায়তা করে।
ডিসিসিআই মনে করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরী হতে পারে। এছাড়া শিল্পায়ন, ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই গ্যাসের মূল্য এখনই বৃদ্ধি না করে বরং শিল্প কল-কারখানায় চাহিদা মাফিক প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করার উপর তাগিদ প্রদান করছে ডিসিসিআই। কারণ গ্যাসের অভাবে এখনও অনেক শিল্প-কলকারখানায় উত্পাদন ব্যহত হচ্ছে। একই সাথে ডিসিসিআই সরকারকে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ নীতিমালার পাশাপাশি তিন বছর মেয়াদি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করার জন্য প্রস্তাব করছে।
