চাকরিতে প্রবেশের বয়স পঁয়ত্রিশের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে ঈদের জন্য। ঈদের পর আবার কমসূচির ঘোষণা দেয়া হবে।
চাকরিতে প্রবেশের বয়স বড়ানোর দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সুমন গত পনের দিন ধরে সংসদ ভবনের সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন।
এ অবস্থান ধর্মঘটে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।তারা বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ‘ত্রিশ’ এ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের তরুণ সমাজ আজ হুমকির মুখে। দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু কম ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। এর ফলে আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পেয়েছি হতাশ হয়ে চাকরি প্রার্থীরা আত্মহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে সুমন বাংলাদেশের সংবিধান এর ১৫(ঘ) এবং ২৮(৪) অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন করার বিষয়ে বলেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার অর্থাৎ বেকারত্ব, রোগব্যাধী, পঙ্গুত্ব, বিধবা, এতিম, বার্ধক্যজনিত বা এরকম আয়ত্তের বাইরে অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে অভাব-অনটনের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করা। ২৮(৪) নারী ও শিশুদের জন্য উপকারী বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য রাষ্ট্র যদি কোনো বিশেষ আইন প্রণয়ন করে সেক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে বাধা প্রধান করবে না।IMG0
এ ছাড়া তিনি বলেন, চাকরিতে প্রেবেশের বয়স এর দেয়ালের কারণে, আমারা বেসরকারি চাকরিতেও প্রবেশ করতে পারিনা, দেশের ব্যাংকসহ বিভন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও সরকারকে অনুসরণ করছে। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। অন্যদিকে হতাশ হয়ে ছাত্ররা বিভন্ন অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
তিনি আরো যোগ করেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার বিষয়টি গত ৯ম ও ১০ সংসদ এর সকল অধীবেশনে কোন না কোন সংসদ সদস্য প্রস্তাব দিয়ে আসছেন, তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার কোন বিকল্প নেই।
অবস্থান ধর্মঘটের বিরতির ঘোষণা করার সময় উপস্থিত ছিলেন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার দবিতে সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।
