হবিগঞ্জের বাহুবলে আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে আদালত। একই সাথে কারাগারে আটক পাঁচজন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এসময় নিজেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক দাবি করে এক আসামির ডাক্তারি পরীক্ষার সনদে আপত্তি জানালে সে আবেদনও খারিজ করে দেন বিচারক।
মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের জেলা জজ কিরণ শংকর হালদার এই আদেশ দেন। ২৫ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম জানান, শুনানি শেষে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ নির্ধারিত তারিখে আসামি আব্দুল আলী ওরফে বাগাল, তার ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, হাবিবুর রহমান আরজু এবং সাহেদ আলী ওরফে সায়েদকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এছাড়া পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত উক্ত মামলায় জামিনে থাকা সালেহ আহমদ ও তার ভাই বশির আহমদ এবং র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত অটোরিকশা চালক বাচ্চু মিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই মনির মিয়া (৭), তাজেল মিয়া (১০) ও ইসমাইল হোসেন (১০) গত ১২ ফেব্রুয়ারী গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠে খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে একটি বালুর ছড়া থেকে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঐ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তভার পান ডিবি পুলিশের তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুকতাদির হোসেন। তিনি তদন্ত শেষে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এতে পঞ্চায়েত সর্দার আব্দুল আলী বাগাল, তার ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, ভাতিজা সাহেদ আলী ওরফে সায়েদ, অন্যতম সহযোগী হাবিবুর রহমান আরজু, উস্তার মিয়া, বেলাল মিয়া ও বাবুল মিয়াকে আসামি করা হয়। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশা চালক বাচ্চু মিয়া র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এবং ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় গ্রেফতারকৃত সালেহ আহমেদ ও বশির আহমেদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের মাঝে এখনও পর্যন্ত পলাতক রয়েছে উস্তার মিয়া, বেলাল মিয়া ও বাবুল মিয়া।
